বাংলাদেশে আর নিরাপদ নয় হিন্দুরা! নতুন সরকারের আমলে ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকায় পঞ্চাশ বছরের নিরঞ্জনচন্দ্র সূত্রধর নামে এক হিন্দু ব্যক্তির খুনের ঘটনায় এবার নিজের মাতৃভূমিকে 'জিহাদিস্তান' তকমা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। ফেসবুকে লিখলেন, ' সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা?' 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ত্রিশাল উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকায় স্থানীয় এক জলাশয়ে ভাসতে থাকা ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় নিরঞ্জনের দেহ। জানা গিয়েছে তিনি এক জুয়েলারি দোকানের ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁকে কেন খুন হতে হল তা স্পষ্ট নয়।বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত থানায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি বলে পুলিশের তরফ থেকে জানা যায়। মৃত ব্যক্তির পকেট থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কোঅপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের টোকেন পাওয়া যায়। সেখান থেকেই পরিচয় সনাক্ত করতে পেরেছে প্রশাসন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিস্ফোরক পোস্ট করেন বাংলাদেশের নির্বাচিত লেখিকা তসলিমা। তিনি লেখেন, 'সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা? সব হিন্দুর জমি দখল করে নেবে? তাদের টাকা পয়সা লুট করে নেবে? বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে? আমি জানিনা কি করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জেহাদিস্তানে।' এখানেই শেষ নয়, 'কোনও সুস্থ ও সভ্য মানুষ হিংস্র,বর্বর,অসভ্য মুসলমানের দেশে বাস করতে পারবে না' বলেও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন লেখিকা।

আরও পড়ুন: লাদাখে হিংসার দায় শাহের! ‘এনকাউন্টারে মৃত্যু’র আশঙ্কা সোনমের

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ কোনও নতুন ঘটনা নয়। সেদেশে সরকার পরিবর্তন হলেও শেখ হাসিনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধিকার কার্যত তলানিতে। কট্টরপন্থী জামাতের দাপটে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হিন্দুদের কোণঠাসা হয়ে পড়া, খুন-ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবরে বারবার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে দিল্লি। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করলেও সমস্যা মেটেনি। এখনও যে সেই দেশের সংখ্যালঘু অধিকার প্রশ্নের মুখে তা ফের নিরঞ্জনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেল। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন নির্বাচিত লেখিকা তসলিমা। নয়ের দশকে তাঁর লেখায় নারী নিপীড়ন এবং ইসলাম ধর্মের সমালোচনা ভালো চোখে দেখেনি বাংলাদেশ। তাই ১৯৯৪ সাল থেকেই তিনি বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত। পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করার পর বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। কিছুদিন আগেই কলকাতায় এসে ধর্ম ও মানবতা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন তিনি। আগামী ৮ অক্টোবর ফের শহরে আসবেন। তবে এই মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে মাতৃভূমির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তিনি তাতে নিঃসন্দেহে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাহলে কি সরকার পালাবদলেও বাংলাদেশের প্রশাসকের ভাবনা চিন্তা আটকে আছে সেই ধর্মীয় গোঁড়ামিতেই নাকি একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা এবং সে দেশের সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে হিন্দুদের জন্য এখনও নিরাপদ নয় বাংলাদেশ? তসলিমার এক পোস্টে অনেক প্রশ্ন ফের মাথাচাড়া দিয়েছে।