রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার নতুন সভানেত্রী হলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। ২৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিজেপির এক বড়সড় সাংগঠনিক রদবদলের মাধ্যমে এই ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দলের একনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে কাজ করার পর, অবশেষে তাঁর এই রাজনৈতিক নিষ্ঠার সবচেয়ে বড় উপহার পেলেন অভিনেত্রী। শুটিংয়ের ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেই এই খুশির খবরটি পৌঁছায় তাঁর কাছে। নতুন এই গুরুদায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁর অনুরাগী ও রাজনৈতিক মহলে খুশির হাওয়া।
আরও পড়ুন: বান্ধবীর বাড়িতে 'গুণ্ডা' পাঠাচ্ছেন মা নীলাম! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পুত্র
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলের সমস্ত নীতি ও আদর্শকে সামনে রেখে ময়দানে লড়াই করেছেন অঞ্জনা বসু। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির জনপ্রিয় মুখ হওয়া সত্ত্বেও কোনওদিন দলের কর্মসূচিতে মিডিয়ায় মুখ দেখাতে ব্যস্ত হননি অভিনেত্রী। বরং বহু চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও তিনি দলের পাশ থেকে একচুলও নড়েননি। বাংলায় যখনই দলের কোন সাংগঠনিক কর্মসূচি বা প্রচারের প্রয়োজন হয়েছে, নিজের কাজের পাশাপাশি সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি সেখানে উপস্থিত থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি এই অবিচল আনুগত্য এবং নিঃস্বার্থ লড়াইয়েরই যোগ্য সম্মান ও পুরস্কার দেওয়া হল তাঁকে।
আরও পড়ুন: পোস্টারেই বাজিমাত কৌশিকের! ‘তারপর’-এর রহস্য বাড়াতে মুখোমুখি অনির্বাণ-রুদ্রনীল
বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি কার্যকর করার অংশ হিসেবে এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে অগ্নিমিত্রা পালের জায়গায় অঞ্জনা বসুকে নিয়ে আসা হয়েছে। আসন্ন পুরভোটের আগে নারীদের নেতৃত্বকে আরও জোরালো করতে তাঁর মতো একজন সুবক্তা ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে সামনে রাখা অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি তাঁকে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর পরামর্শক সদস্য করার পাশাপাশি কলকাতার একটি নামী কলেজের পরিচালনা সমিতির সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। আর এবার সরাসরি রাজ্য মহিলা মোর্চার সর্বময় কর্ত্রী করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিল, তাঁর ওপর দলের ভরসা কতটা গভীর।
আরও পড়ুন: দার্জিলিঙে ধস, হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল হাসপাতালের একাংশ
টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের অত্যন্ত গুণী শিল্পী অঞ্জনা বসু বিশ্ববাংলা সংবাদকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সত্যিই আমি ভীষণ খুশি। তবে এই মুহূর্তে হাতে অনেকটা কাজ আছে। সেই কাজ সেরে নিয়েই আমি আগামীর পরিকল্পনা করব।” কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতি- উভয় দিকই যিনি সমান্তরালভাবে সামলে এসেছেন, তাঁর এই সাফল্যে শুটিং ফ্লোরের সহকর্মীরাও তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
নতুন সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে অঞ্জনা বসু আগামী দিনে বাংলার মা-বোনেদের অধিকার রক্ষা ও নারীদের আরও স্বাবলম্বী করে তুলতে বড় ভূমিকা পালন করবেন, এমনটাই আশা প্রকাশ করেছে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব।
















