রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এসেই কলকাতায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে। একাধিক বেআইনি নির্মাণকে বুলডোজার দিয়ে ভাঙা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা শহরে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার পরও একই জায়গায় ফের নির্মাণকাজ চলছে। আর অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের নির্দেশের পর কীভাবে ওই জায়গায় নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey) আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

আরও পড়ুন: মোদির সঙ্গে মহিলার আপত্তিকর ছবি! CJP-র নেতাদের নোটিশ দিল্লি হাই কোর্টের

আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুরসভার আইনজীবীর গা-ছাড়া মনোভাব ও অজ্ঞতায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেই এই তলব বলে আদালত সূত্রে খবর। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে শুক্রবার আদালতে হাজির হন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। মামলার শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার পর একই জায়গায় ফের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় কলকাতা পুরসভার আইনজীবীর বক্তব্যে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। বিষয়টি স্পষ্ট করতেই পুর কমিশনারকে আদালতে ডাকা হয়েছে বলে জানানো হয়।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি পুর কমিশনারের সামনে তাঁর মহারাষ্ট্রে কাজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মুম্বই, থানে, কল্যাণ-ডম্বিভলি এবং নবি মুম্বই-সহ একাধিক পুর নিগমের মামলায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর মনে হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কী ঘটছে, তার সম্পূর্ণ তথ্য পুর কমিশনারের কাছে পৌঁছয় না। নির্দিষ্ট কিছু তথ্যই তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয়।

তবে আদালতের মতে, এমন গুরুতর কোনও ঘটনায় পুরসভার আইনজীবীর কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার পরিস্থিতি কাম্য নয়। বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার পরও যদি সেখানে ফের নির্মাণকাজ শুরু হয়, তা হলে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

পুর কমিশনারের উদ্দেশে আদালতের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, হাইকোর্টের নির্দেশে কোনও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার পর একই জায়গায় যাতে ফের নির্মাণকাজ শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, পরবর্তী সময়ে সেখানে ফের কাজ শুরু হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। আগামী ১৪ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। সেদিন বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে হাই কোর্টের নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, সে বিষয়ে রাজ্যকে ইতিবাচক রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।