পরপর দুই রবিবারে অশান্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বা SRFTI। রবিবারের সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে কড়া নিরাপত্তা। ফের গেটে মহাত্মা গান্ধীর ছবি টাঙালেন পড়ুয়ারা। একইসঙ্গে দেওয়াল লিখনও ফিরে এসেছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবিতে উপাচার্যের দ্বারস্থ হয়েছেন পড়ুয়ারা। 

আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের জন্য ৫০ হাজার, ‘ভগিনী নিবেদিতা’ প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিলকে ঘিরে। অজয়নগর থেকে মিছিল এসে পৌঁছয় SRFTI-এর সামনে। পুলিশের তরফে আগে থেকেই ব্যারিকেড করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই ব্যারিকেড সরিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে মিছিলকারীদের একাংশ। গেট বন্ধ থাকায় শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা পড়ুয়া ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে বাইরে থেকে বোতল ও ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশেরও ধস্তাধস্তি হয়। দু’পক্ষের তরফেই আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার মধ্যেই গান্ধী ও আম্বেদকরের ছবি সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। পরদিন সকালে ফের মহাত্মা গান্ধীর ছবি গেটে টাঙিয়ে দেন পড়ুয়ারা। পুলিশের উপস্থিতিতে আগের দিনের দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়া হলেও ফের সেখানে লেখালেখি করা হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, সেই কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 

আরও পড়ুন: এক লক্ষ চাকরি থেকে কর্মবন্ধুদের ভাতা বৃদ্ধি: নবান্ন থেকে জোড়া ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পড়ুয়াদের অভিযোগ, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু’বার ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। তাই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রদের একাংশ। উল্লেখ্য, এর আগের রবিবার SRFTI-তে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচিকে ঘিরে পড়ুয়া ও সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেই প্রতিবাদে নামে বিভিন্ন মহল। তদন্তের জন্য SIT-ও গঠন করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, এক সপ্তাহে পরপর দুটি সংঘর্ষের পর এখন মূল প্রশ্ন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? আর বহিরাগতদের প্রবেশ ঘিরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনায় লাগাম পড়বে কবে?