সভা করার প্রশাসনিক অনুমতি বাতিল হলেও তৃণমূলকে রোখা গেল না। নির্ধারিত প্রেক্ষাগৃহে ছাড়পত্র না মেলায় শেষমেশ দলীয় কর্মীর বাড়ির উঠোনেই অনুষ্ঠিত হল কর্মিসভা। সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে সেই সভায় দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, জনজোয়ার দেখে ভয় পেয়ে পুলিশকে চাপ দিয়ে সভার অনুমতি বাতিল করানো হয়েছে। তবে তৃণমূলের কর্মীদের ভয় দেখানো যে সহজ নয়, এ দিন ভিড়ে ঠাসা সভামঞ্চ থেকে সেই বার্তাই দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। 

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমারগঞ্জের সুকান্ত ভবনে সপ্তাহখানেক আগেই এই কর্মিসভা হওয়ার কথা স্থির হয়েছিল, ছিল প্রশাসনিক অনুমতিও। কিন্তু রবিবার রাতে হঠাৎই পুলিশ সেই অনুমোদন প্রত্যাহার করে নেয়। এর পরেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী মৃণাল সরকারের বাড়ির চত্বরেই সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় সাত শতাধিক কর্মী-সমর্থকের ভিড় উপচে পড়ে। 

মঞ্চে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বলেন, উত্তর দিনাজপুরের জনসমাবেশ দেখে বিজেপির ভিত নড়ে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ভয় পেয়ে এসপি-কে ফোন করে সুকান্ত ভবনের অনুমতি বাতিল করিয়েছেন। ওরা ভেবেছিল এতে তৃণমূলকে আটকে রাখা যাবে। কিন্তু ভিতু বিজেপি ভুলে যাচ্ছে, এই দলের নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নীতি ও সাহসেই দল চলে। তৃণমূল কর্মীরা কারও চোখরাঙানিকে ডরান না। সাংসদ জানান, রবিবার রাতে অনুমতি বাতিলের খবর পাওয়ার পরেই তিনি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কর্মসূচিতে তিনি যাবেনই। প্রয়োজনে বুনিয়াদপুরের রাস্তায় একাই হাঁটবেন। কর্মীদের উদ্যোগেই সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি তাঁর। 

এ দিনের সভা থেকে দলবদলুদের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান কল্যাণ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, মানুষই নেতা বা সাংসদ তৈরি করে। তাই মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে জনতা কাউকে ক্ষমা করে না। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক বৈধ নাগরিকের নাম বাদ যাওয়া নিয়েও সরব হন সাংসদ। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন তিনি।