প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যাতে আর কোনও পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে ফিরতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এবার আরও কড়া হল পুলিশ। ঘাঘরা (Ghagra) ও ঢাঙ্গিকুসুম (Dhangikusum) জলপ্রপাতের বিপজ্জনক জায়গাগুলি চিহ্নিত করে পর্যটকদের প্রবেশ আটকাতে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাদারানী প্রাকৃতিক লেকের সেতুতেও লাগানো হয়েছে সতর্কতামূলক পোস্টার।
আরও পড়ুন: সুপারস্টার নন, দেব তো ঘরের নাতি! শিলিগুড়িতে দেবকে ভালোবাসার চুমু ৮০ বছরের বৃদ্ধার
সোমবার পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যেই মাইক হাতে সচেতনতা প্রচারে নামে বেলপাহাড়ি থানার (Belpahari Police Station) পুলিশ। জলপ্রপাতের ধারে কোথায় দাঁড়ানো নিরাপদ, আর কোন অংশে গেলেই বিপদ হতে পারে, তা পর্যটকদের জানানো হয়। বিশেষ করে ব্যারিকেড বা দড়ি দিয়ে চিহ্নিত করা এলাকা কোনওভাবেই পেরোনো যাবে না বলে বারবার সতর্ক করছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: পুরনো শাড়ি, নতুন স্টাইল; এই পুজোয় ভিড়ের মাঝে নজর কাড়ুক আপনার ‘ফিউশন লুক’
পুলিশের বক্তব্য, জলপ্রপাতের জলের স্রোত এবং আশপাশের ভূপ্রকৃতির কারণে নির্দিষ্ট কিছু জায়গা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাইরে থেকে জায়গাগুলি নিরাপদ মনে হলেও আচমকা পা পিছলে বা জলের টানে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আনন্দ করতে গিয়ে সতর্কতার সীমা অতিক্রম না করার আবেদন জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। বারুইপুর থেকে ঘাঘরা জলপ্রপাত দেখতে এসে জলে তলিয়ে যান ৩৪ বছরের প্রীতি দত্ত। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি জলে ঝাঁপ দেন। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর রবিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। পর্যটকের এই মর্মান্তিক পরিণতির পরই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ-প্রশাসন। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানিয়েছেন, ঘাঘরা জলপ্রপাতের ধার ঘিরে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও যে জায়গাগুলি বিপজ্জনক, সেগুলিও চিহ্নিত করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের জন্য দরজা খোলা থাকলেও বিপজ্জনক জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এবার আর কোনও ছাড় নয়।















