প্রচারের কোলাহল থামতেই নিঃশব্দ রণকৌশল সাজানোর পালা পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নিজের ছেড়ে আসা কেন্দ্র নন্দীগ্রামেই মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক টানাপড়েন ও চাপা উত্তেজনার আবহে ভোটগ্রহণকে ঘিরে দুই এলাকাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী শুক্রবার, ৯ অক্টোবর জানা যাবে জনতার রায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে দুই কেন্দ্র মিলিয়ে মোতায়েন করা হচ্ছে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে থাকছে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি জওয়ান। নন্দীগ্রামে মোট ৩১৫টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৫৫, মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৬৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক জন। অন্যদিকে, রেজিনগরে মোট বুথ ও অক্সিলারি বুথ মিলিয়ে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৩১৫টি। যার মধ্যে দু’টি মহিলা পরিচালিত বুথ এবং একটি মডেল বুথ রয়েছে। রেজিনগরে মোট ভোটারের সংখ্যা আড়াই লক্ষাধিক, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯২৫ এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬১৬ জন।
২০২৬-এর সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— জোড়া আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়কের মা হাসিরানি রথকে। অন্য দিকে, তৃণমূল প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এই আসনে কংগ্রেসের প্রতীক মিলন প্রধানকে সমর্থন জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়াও গণতান্ত্রিক তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মহম্মদ এতেশামুল হক।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগরেও বিধায়ক পদত্যাগের কারণে ভোট করাতে হচ্ছে কমিশনকে। এই আসন এবং নওদা— দুটি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। নিয়ম মেনে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এ বার সেখানে তিনি প্রার্থী করেছেন নিজের পুত্র গোলাম নবী আজাদকে। মাস কয়েক আগের নির্বাচনে প্রায় ৫৯ হাজার ভোটের মার্জিন ধরে রাখাটাই এখন তাঁর পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্য দিকে, এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে শাখারভ সরকারকে। প্রার্থীর হয়ে প্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের ভোট চেয়ে সুর বেঁধে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং। সব মিলিয়ে রেজিনগরে তৃণমূল, বিজেপি ছাড়াও সিপিএম, কংগ্রেস ও নির্দল মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য ইভিএম-বন্দি হতে চলেছে। সমস্ত নজর এখন মঙ্গলবার সকালের বুথমুখী মানুষের দিকে।















