যন্তর- মন্তরে (Jantar Mantar) জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য যদি জেলে যেতে হয়, তা হলে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়েই প্রশ্ন উঠবে! দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতার গ্রেফতারি নিয়ে এ বার সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ হতে পারে না। এই ঘটনার জন্য তরুণদের জেলে পাঠানোকে 'কাপুরুষোচিত' বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। যন্তর মন্তর-কাণ্ডে ধৃত সিজেপি নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিলেন রাহুল।
আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানীকৃত ভারত’! সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারিতে কেন্দ্রকে তুলোধোনা অভিষেকের
বুধবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে রাহুল লেখেন, পড়ুয়া, তরুণ প্রজন্ম, সাংবাদিক এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা আলাদা আলাদা ব্যানারে আন্দোলন করলেও তাঁদের দাবি এক। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্যই এই প্রতিবাদ। একই সঙ্গে যন্তর- মন্তরকে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বার্তা, এই জায়গা ফের নিজেদের দখলে আনবেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: চতুর্থীর সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ফুল কিনতে গিয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় মৃত্যু কাকা- ভাইঝির!
গত শনিবার সিজেপির ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হন বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে সে দিন রাহুল বা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। ফলে সিজেপির আন্দোলন থেকে কংগ্রেস দূরত্ব বজায় রাখছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বুধবারের পোস্টে সেই জল্পনায় জল ঢাললেন রাহুল।
এ দিকে, মঙ্গলবার রাহুলের বাসভবনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের বৈঠকেও আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বিরোধী নেতারা স্পষ্ট করে দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। যন্তর মন্তর ছেড়ে যাওয়ারও কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁদের।
বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য তার আগেই। সোমবার দিল্লি পুলিশ জানায়, যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। পরিবর্তে বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি-সহ তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
বুধবার সকালে সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ জানান, সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্ককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে তিন জনকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়। অনধিকার প্রবেশ এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, বন্ডের শর্ত ভাঙার অভিযোগও ওঠে সৌরভ ও আশুতোষের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য দিকে, শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে বন্ডে সই করায় অজিঙ্ক শিন্দেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।















