উত্তরপাড়ার পর বেলেঘাটা, ফের তৃণমূল বিধায়কের উপর প্রাণঘাতী হামলা। শনিবার নেত্রীর সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় বিজেপির গুন্ডারা হামলা করে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) উপর। গাড়ি ভেঙে তছনছ করার পর শারীরিকভাবে আক্রান্ত হন। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার কুণালের বিধানসভা এলাকাতেই হামলা বিজেপির পাঠানো দুষ্কৃতীদের। হাতুড়ি, রিভলভার বের করে সরাসরি খুনের চেষ্টা। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি নারকেলডাঙা থানায় ঢুকিয়ে দেন কুণালের সতীর্থ চালক। কোনওমতে প্রাণে বেঁচে যান তৃণমূল বিধায়ক ও তাঁর সতীর্থরা।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বলেন, যে রাজ্যে জনপ্রতিধিরাই সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা, তা সহজেই অনুমান করা যায়। কুণালকে ফোন করে বারবার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ (Mamata Banerjee) দলের অন্য নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, আগাম খবর পাওয়া সত্ত্বেও কুণাল ঘোষে নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা কেন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করল না। কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীও এই ঘটনাকে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলেও অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে ৩ প্রশ্ন ঋতিকার! শোনালেন তোলপাড় করা সেই রিপোর্টের নেপথ্য কাহিনি

বেলেঘাটার বিধায়কের রবিবারের কর্মসূচি ছিল পূর্বনির্ধারিত। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে। রাস্তা-পার্ক সংক্রান্ত কাজ। পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার পরে আরও কিছু এলাকা যোগ করার বিষয় ছিল। সেই কারণেই সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কুণাল। সঙ্গে ছিলেন সতীর্থ চারজন। তার মধ্যে একজন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মানিকতলা এলাকা থেকেই কিছু অপরিচিত বাইক বাহিনী পিছু নিয়েছিল বেলেঘাটার বিধায়কের। তারা কখনও গাড়ি ঘিরে ফেলছে তো কখনও বাইক সামনে এনে গাড়ি থামিয়ে দিচ্ছে। এরপর হাতুড়ি নিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙা শুরু। বাইকে থাকা বিজেপির দুই গুন্ডা একেবারে গাড়ির গায়ে এসে জানলার কাচ ভেঙে কুণালকে গলা ধরে টেনে বের করার চেষ্টা করে। কুণাল বলেন, এই সময় আমার সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষী যদি রিভলভার বের না করতেন, তাহলে ওরা আমায় মেরে ফেলত। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের পর ছ’বার তাঁর উপর হামলা হয়েছে। তারমধ্যে গত তিনদিনে টানা তিনবার। আর রবিবার বেলেঘাটায় যেটা হয়েছে সেটা হল সুপারি কিলার দিয়ে খুনের চেষ্টা।

নারকেলডাঙা থানা চত্বরে দাঁড়িয়েই কুণাল বলেন, 'পুলিশকে বারবার বলা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তারা হাত গুটিয়ে বসে আছে। আদালতের নির্দেশে আমার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ছিল। নতুন সরকার সেটাও তুলে নিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে হামলার অভিযোগ করে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কুণাল বলেন এইভাবে ভয় দেখিয়ে তাঁকে আটকানো বা দমিয়ে রাখা যাবে না।'