মুসলিম পার্সোনাল ল (Muslim Personal Law) অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে। এই যুক্তি দেখিয়ে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পকসো (POCSO) মামলা থেকে রেহাই মিলবে না। দিল্লি হাই কোর্টের (Delhi High Court) সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হল।
আরও পড়ুন: পেট্রল নয়, এবার ১০০ শতাংশ ইথানলে গাড়ি: ঘোষণা গড়করির
মামলাটি ছিল দিল্লির এক যুবককে ঘিরে। অভিযোগ, ১৬ বছর ৩ মাস বয়সি এক নাবালিকাকে বিয়ে করেছিলেন ওই যুবক। বিয়ের পর তাঁদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয় এবং পরে ওই নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর বয়সের বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয় এবং যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
মামলা খারিজের আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন যুবক। সঙ্গে তাঁর নাবালিকা স্ত্রীও সেই আবেদনে শামিল হন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী বয়ঃসন্ধি পেরনোর পর একজন মহিলার বিয়ে বৈধ হতে পারে। ফলে তাঁদের বিয়ের ক্ষেত্রে আইন ভাঙার প্রশ্ন নেই। নাবালিকা নিজেও আদালতে জানান, তাঁকে কোনওরকম জোর করা হয়নি। নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে এবং যৌন সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলেন তিনি। স্বামীকে পাশে রেখেই সন্তানকে বড় করতে চান বলেও আদালতের কাছে আবেদন করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ধর্মঘটের ধাক্কা সামলাতে আজ সারাদিন সচল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা
কিন্তু এই যুক্তিতে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পথে হাঁটেনি আদালত। বিচারপতি সঞ্জীব নারুলার বেঞ্চ জানায়, ব্যক্তিগত আইনে কোনও বিয়ের বৈধতা এবং নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকসো আইনের প্রয়োগ, দুটিই আলাদা আইনি বিষয়। ব্যক্তিগত আইনের ভিত্তিতে পকসোর বিধানকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
আদালতের বক্তব্য, শুধুমাত্র মুসলিম পার্সোনাল ল-এর অধীনে বিয়ে হয়েছে বলে পকসো বা যৌন অপরাধ সংক্রান্ত আইনের আওতা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া যায় না। এমন কোনও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতে হলে তার জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। সেই কারণেই অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে চলা পকসো মামলা খারিজের আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত।
অর্থাৎ, কোনও বিয়েকে ব্যক্তিগত আইনের অধীনে বৈধ বলে দাবি করা হলেও, নাবালিকার ক্ষেত্রে যৌন অপরাধ সংক্রান্ত আইনি সুরক্ষা আলাদা করে কার্যকর থাকবে। দিল্লি হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণে সেই অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে।
















