বারবার সতর্কবার্তার পরেও বিজেপির নাম করে তোলাবাজির অভিযোগে ইতি টানা যাচ্ছে না। তোলাবাজি নিয়ে দলের কর্মীদের পাশাপাশি মণ্ডল সভাপতিদের নাম জড়ানো নিয়েও অস্বস্তিতে দলীয় নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে ফের কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (BJP State President Shamik Bhattacharya)। ডানকুনির একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নেই, দলের নামে কারখানা থেকে চাঁদা বা তোলা আদায়েরও কোনও ব্যবস্থা নেই। দলের পতাকা হাতে নিয়ে কেউ এই ধরনের কাজে জড়ালে তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান তিনি।

শমীকের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর দলের নাম এবং পতাকা ব্যবহার করে শিল্পাঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাঁদেরই ‘সদ্য বিজেপি’ বলে কটাক্ষ করে রাজ্য সভাপতি বলেন, কয়েক ঘণ্টার জন্য বিজেপির পরিচয় নিয়ে কারখানার গেটে পৌঁছে তোলা আদায়ের চেষ্টা করলে তার দায় দল নেবে না। পুলিশকে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি শমীক জানান, দলের সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনও সাংগঠনিক যোগাযোগ পাওয়া গেলে দলীয় স্তরেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

তোলাবাজি নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন শমীক। দলবিরোধী কাজ, তোলাবাজি কিংবা সমাজবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দলের তরফে একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি বিজেপির। কিন্তু সেই বার্তার পরেও বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগের তালিকায় মণ্ডল সভাপতিদের নামও উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে এবার ডানকুনির সভা থেকে আরও কড়া ভাষায় দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্য সভাপতি।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্বের তরফে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এর কথা বলা হচ্ছে। শমীকের দাবি, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি এবং হিংসার ঘটনায় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে এদিন ফের সেই অবস্থানই সামনে এল। দলের নাম, পতাকা বা পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কারখানা থেকে তোলা আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।