উপনির্বাচনের প্রচারের শুরুতেই নন্দীগ্রামের মাটিতে প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে পড়লেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর প্রার্থী মহম্মদ এহতেশামুল হক। রবিবার নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে গ্রামবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের মুখে পড়ে মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যেই প্রচার অসম্পূর্ণ রেখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হলেন তিনি ও তাঁর অনুগামীরা। বিভাজন ও মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে প্রার্থীর সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রবিবার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নন্দীগ্রামের ভূতার মোড় এলাকায় প্রচারে নেমেছিলেন এহতেশামুল। সঙ্গে ছিলেন শিবিরের অন্যান্য নেতারাও। কিন্তু গ্রামে পা রাখতেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পথ আটকে দাঁড়িয়ে প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, ভোটের আগে এলাকায় এসে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে। বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলে নন্দীগ্রামের সম্প্রীতির বাতাবরণ নষ্ট করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।

ঘটনাস্থলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে প্রার্থীর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে তৃণমূলের অতীত ভূমিকা এবং পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রসঙ্গ টেনেও স্থানীয়রা বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। প্রার্থীর তরফে সংযত থাকার এবং দলীয় বক্তব্য শোনার আর্জি জানানো হলেও ক্ষুব্ধ জনতা তা শুনতে নারাজ হন। হাতজোড় করে নেতাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন স্থানীয়েরা। ক্রমশ জনরোষ বাড়তে থাকায় এবং পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রচার গুটিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন প্রার্থী। ভোটে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের মাথায় প্রার্থীর এমন কার্যত এলাকা ছাড়া হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশও এই ঘটনা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন।