শৌচকর্মের অজুহাতে দেওয়াল টপকে হোল্ডিং সেন্টার (Holding center) থেকে পালিয়েছিল যুবক। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পালানোর পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল বন দফতরের প্রশিক্ষিত সারমেয় ‘অরল্যান্ডো’ (Orlando)। প্রায় এক কিলোমিটার দূরের চা-বাগান থেকে ওই যুবককে খুঁজে বার করে দিল সে। সূত্রের খবর, রোহিঙ্গা (Rohingya) সন্দেহে যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। গ্রেফতার করে রাজগঞ্জের (Raiganj) হোল্ডিং সেন্টার রাখা হয়েছিল তাকে। 

আরও পড়ুন: ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’ ঢাল নয়, নাবালিকার ক্ষেত্রে পকসোই শেষ কথা: দিল্লি হাই কোর্ট

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে হোল্ডিং সেন্টার থেকে বেরিয়েছিল মোহাম্মদ সোলেমান নামে ওই যুবক। সেই সুযোগেই নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে দেওয়াল টপকে বাইরে চলে যায় যুবক। এর পর ঝোপঝাড় পেরিয়ে দৌড়ে পালায় সোলেমান।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় একেরপর এক বন্দুকবাজের হামলা, মৃত ২৭

বিষয়টি নজরে আসতেই হোল্ডিং সেন্টারে তল্লাশি শুরু হয়। খবর দেওয়া হয় রাজগঞ্জ থানাতেও। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েও প্রথমটায় তার কোনও সন্ধান মেলেনা। শেষ পর্যন্ত সাহায্য চাওয়া হয় বন দফতরের কাছে। মালবাজার মহকুমা পুলিশের অনুরোধে জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের প্রশিক্ষিত কুকুর ‘অরল্যান্ডো’কে অভিযানে নামানো হয়। গরুমারা জাতীয় উদ্যানে নজরদারি এবং তল্লাশি অভিযানে অভ্যস্ত এই কুকুরটি এবার অনুসরণ করে পালিয়ে যাওয়া যুবকের পোশাকের গন্ধ।

গন্ধের সূত্র ধরে পুলিশকর্মীদের নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে যায় ‘অরল্যান্ডো’। পানিকৌড়ি মোড়ের কাছে একটি চা-বাগানে গিয়ে থামে সে। এরপর ওই এলাকায় খোঁজ চালিয়ে সেখান থেকেই সোলেমানকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউ জলপাইগুড়ি এলাকা থেকে চার জনকে আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন সোলেমান। 

এত দিন গরুমারা জাতীয় উদ্যানে চোরাশিকারিদের সন্ধান এবং বন দফতরের বিভিন্ন তল্লাশি অভিযানে ‘অরল্যান্ডো’র উপর ভরসা করা হয়েছে। একাধিক অভিযানে তার ঘ্রাণশক্তি কাজে এসেছে। জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের জেলা সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানিয়েছেন, পুলিশের অনুরোধেই প্রশিক্ষিত কুকুর পাঠানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, অরল্যান্ডো সফল ভাবে পলাতক যুবকের সন্ধান দিয়েছে।