সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলেই তাঁর প্রতি বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সন্তান যদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার (Physical Disability) কারণে নিজে উপার্জন করতে না পারে, তাহলে তাঁর থাকা, খাওয়া এবং চিকিৎসার মতো সাধারণ প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব বাবাকেই বহন করতে হবে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)।

একটি ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি উদয় কুমার (Justice Uday Kumar) জানান, শুধুমাত্র সাবালক হয়ে যাওয়াকে বাবার ভরণপোষণের দায় থেকে অব্যাহতির কারণ হিসেবে দেখা যায় না। বিশেষত, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনও সন্তান যদি নিজে উপার্জন করতে অক্ষম হন, সেক্ষেত্রে আইনের সুরক্ষা তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। মামলাটি ২০০৫ সালে সমিত প্রামাণিকের বিরুদ্ধে দায়ের করেছিলেন তাঁর স্ত্রী টুম্পা প্রামাণিক এবং তাঁদের নাবালক ছেলে সুদীপ্ত প্রামাণিক। মামলার শুনানিতে উঠে আসে, সুদীপ্ত গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত এবং নিজের ভরণপোষণের মতো আয় করার ক্ষমতা তাঁর নেই।

আদালত জানিয়েছে, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত হন এবং সেই কারণে নিজের ভরণপোষণ করতে না পারেন, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫(১)(সি) ধারার সুরক্ষা তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। একইসঙ্গে, ১২৭ ধারার অধীনে আগের ভরণপোষণের নির্দেশ বহাল রাখা বা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে।

তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ভরণপোষণের দায় অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সন্তান যদি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠেন এবং নিজের ভরণপোষণ নিজেই করতে পারেন, তাহলে বর্তমান ভরণপোষণের নির্দেশ বাতিল বা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।

এই রায়ের মাধ্যমে কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট করে দিল, সন্তানের বয়স ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেই তাঁর প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। বিশেষ পরিস্থিতিতে, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও উপার্জনে অক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের জীবনধারণের প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব আইনের আওতায় বাবার উপর বহাল থাকতে পারে।