গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত বিজেপি! রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের পরেই পূর্ব বর্ধমানের দলীয় সংগঠনে প্রকাশ্যে এল অন্তর্দ্বন্দ্বের ছবি। জেলা সভাপতি পদে পরিবর্তনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে পর পর দু’টি ভিডিয়ো। একটি ভিডিয়োয় বিজেপির জেলা কার্যালয়ে (BJP Party Office) গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করতে দেখা যাচ্ছে কয়েক জনকে। অন্য ভিডিয়োয় এক বিক্ষুব্ধ কর্মীকে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।

আরও পড়ুন: বছরে ১৩ বার রিচার্জের দিন শেষ! গ্রাহক-স্বার্থে ট্রাইয়ের নয়া বিধি, সংসদে সরব হয়ে ‘ফল মিলল’, দাবি রাঘবের

সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদে পরিবর্তন করেছে বিজেপি। অভিজিৎ তা-র জায়গায় নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইনজীবী আশিস পালকে। এই পরিবর্তনের পরেই পুরনো নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে বলে দাবি বিজেপির একাংশের। ভাইরাল হওয়া প্রথম ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, কয়েক জন ব্যক্তি পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপির কার্যালয়ের সামনে থেকে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ভিতরে প্রবেশ করছেন। তাঁদের নেতৃত্বে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা রঙ্গন পাত্র। মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে দলীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশে গঙ্গাজল ছিটাতে দেখা যায় তাঁদের। এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিজেপির (BJP) অন্দরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। 

এর মধ্যেই দ্বিতীয় একটি ভিডিয়ো আরও বেশি চর্চায় এসেছে। সেখানে বিজেপির এক বিক্ষুব্ধ কর্মীকে দলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাতে শোনা যাচ্ছে। ভিডিয়োয় তিনি পূর্ব বর্ধমানের সংগঠন, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নির্বাচনের সময় দলের সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওই কর্মী বলেন, “ অবশেষে ঢোল ফাটলো, বর্ধমান জেলা বিজেপি আজ রাহুমুক্ত হল।” সেইসঙ্গে লোকসভা ভোটে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে দলের ভরাডুবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভোটের সময় এঁদের কোনও পাত্তা ছিল না। বর্ধমান উত্তর, দক্ষিণ, ভাতার বা দুর্গাপুরে যুব মোর্চার সভাপতি হওয়ার মতো যোগ্য মুখ কি ছিল না যে খণ্ডঘোষ থেকে কাউকে এনে বর্ধমান দক্ষিণের ভোটার বানিয়ে সভাপতি করতে হল?”

ওই কর্মীর বক্তব্যে লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের ফলাফলের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তাঁর প্রশ্ন, জেলার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নেতাদের মধ্যে যোগ্য মুখ থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে কাউকে এনে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন কেন হল। ভিডিয়োর শেষ দিকে তিনি কটাক্ষের সুরে, “বর্ধমানে কোথায় ভালো পচা ডিম পাওয়া যায় জানাবেন।”

জেলা সভাপতি পরিবর্তনের পরেই একই সঙ্গে এই দুই ভিডিয়ো সামনে আসায় পূর্ব বর্ধমান বিজেপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলের পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্য দিকে, বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসও (TMC) বিজেপিকে আক্রমণ করেছে। শাসকদলের বক্তব্য, বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এই ঘটনায় প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তাই নিজেদের মাটি শক্ত করতেই তড়িঘড়ি বিজেপি এই সাংগঠনিক রদবদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তাতেই প্রকাশ্যে আসছে বিজেপির মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দলের চিত্র।