শৃঙ্গ জয়ের স্বপ্নে পাহাড়ে ছুটে যেতেন। কর্মসূত্রে ঠিকানা হয়েছিল জার্মানি (Germany)। সেখানেই চাকরি, সংসার, নাগরিকত্ব। তবু কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি। ছুটিতে দেশে ফিরতেন, আর সুযোগ পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তেন পাহাড়ের টানে। সেই পাহাড়েই এবার থেমে গেল ৩৬ বছরের ধ্রুবজ্যোতি গুহের পথচলা।
রবিবার সাত দিন পর কফিনবন্দি হয়ে কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার বাড়িতে পৌঁছায় ৩৬ বছরের ধ্রুবজ্যোতি গুহের মরদেহ। সকাল থেকেই বাড়ির সামনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং পরিচিতদের ভিড় ছিল। কফিন পৌঁছতেই ছেলের দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা-মা। এদিন বাড়িতে শেষশ্রদ্ধা জানাতে আসেন শহরের বহু মানুষ। উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়ও। ধ্রুবজ্যোতির পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা জানান তিনি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ভারত সরকারের উদ্যোগেই মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বাড়িতে শেষশ্রদ্ধা জানানোর পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নবদ্বীপ মহাশ্মশানে।
ছোটবেলা থেকেই পাহাড়ের প্রতি আকর্ষণ ছিল ধ্রুবজ্যোতির। পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর একাধিক অভিযানে অংশ নেন তিনি। মেধাবী ছাত্র হিসেবে জার্মানিতে কাজের সুযোগ পান। পেশায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুবজ্যোতি প্রায় ১০ বছর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন। পরে জার্মানির নাগরিকত্বও নেন। বিদেশে কর্মজীবন এবং সংসার সামলানোর পাশাপাশি পর্বতারোহণের নেশা বজায় রেখেছিলেন। ছুটি পেলেই পাহাড়ে বেরিয়ে পড়তেন। এবারও সেই টানেই নেপালের মানাসলু অভিযানে গিয়েছিলেন তিনি।
২০ সেপ্টেম্বর রাতে মানাসলুর ক্যাম্প-৩ এলাকায় তুষারধসের সময় তাঁবুর মধ্যে ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি (Dhrubajyoti) এবং তাঁর শেরপা গাইড ফুরসেম্বা। প্রবল তুষারধসে তাঁদের তাঁবু বরফের নিচে চাপা পড়ে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল প্রায় সাত ফুট বরফ সরিয়ে দু’জনের দেহ উদ্ধার করে। খবর পৌঁছায় কৃষ্ণনগরের বাড়িতেও। এরপর জার্মানির নাগরিক হওয়ায় মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য একাধিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় ও রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে সেই প্রক্রিয়া এগোয়। অবশেষে সাত দিন পর রবিবার নিজের শহরের বাড়িতে পৌঁছায় ধ্রুবজ্যোতির মরদেহ।
















