‘কৃষকবন্ধু (নতুন)’ প্রকল্পের প্রকৃত সুফল যাতে কেবল যোগ্য কৃষকদের ঘরেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তথ্য যাচাই ও পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়ায় আরও গতি আনল রাজ্য সরকার। অতীতে অযোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ এবং যোগ্যদের বঞ্চিত থাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে সমস্ত উপভোক্তা এখনও নির্ধারিত আবেদনপত্র জমা করেননি, তাঁদের জন্য আরও একটি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে যাবতীয় নথিপত্র-সহ সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি আধিকারিকের দফতরে আবেদন জমা করতে হবে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে অনিয়ম ও বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বহু অযোগ্য প্রাপক প্রকল্পের সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন, অথচ বহু প্রকৃত চাষি নানা জটিলতায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই বৈষম্য দূর করতেই মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে উপভোক্তাদের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং পুনর্বিবেচনার কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে দফায় দফায় সচেতনতামূলক প্রচার, বিশেষ শিবির আয়োজন এবং উপভোক্তাদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েও বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
কৃষি দফতর নির্দেশিকায় জানিয়েছে, আবেদনপত্রের সঙ্গে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার, বৈধ মোবাইল নম্বর, জমির খতিয়ান ও পরচাসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। নথিপত্র যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলবে। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, যোগ্যতা নির্ধারণ ও তথ্য খতিয়ে দেখার কাজ বর্তমানে প্রায় অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে কোনও যোগ্য ও প্রকৃত কৃষক যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে ছিটকে না যান, সেই মানবিক দিক বজায় রাখতেই এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন জমার অন্তিম সুযোগ দেওয়া হল।
















