স্মৃতির সরণি বেয়ে আরও একবার রাজপথে ফিরে আসছে পুরনো দিনের নস্ট্যালজিয়া। আটের দশকের সেই চেনা, দাপুটে ডাবল ডেকার বা দোতলা বাস এবার পুরোপুরি নতুন এবং আধুনিক রূপে পথ কাঁপাতে প্রস্তুত। তবে এবার আর পুরনো ধাঁচের ধোঁয়া ওড়ানো ইঞ্জিন নয়, পরিবেশবান্ধব ও দূষণহীন বৈদ্যুতিক (Electric) বা সিএনজি (CNG) প্রযুক্তিতে সেজেগুজে নতুন রুটে নামছে এই রাজকীয় বাস।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় একেরপর এক বন্দুকবাজের হামলা, মৃত ২৭
কোচবিহারের মতো ঐতিহাসিক শহরের প্রবীণ মানুষদের কাছে ‘৯৫৩’, ‘১২৩৬’, ‘১২৩৭’ কিংবা ‘১৮৫১’-এর মতো সংখ্যাগুলো কেবল রুট নম্বর নয়, বরং এক বুক আবেগ। একসময় এই সমস্ত রুটে দাপিয়ে বেড়াত দোতলা বাস। দীর্ঘদিন ধরে বাসগুলো অচল হয়ে পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষের আফসোসের শেষ ছিল না। এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (NBSTC) এই নস্ট্যালজিয়াকে রাজপথে ফেরানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: পেট্রল নয়, এবার ১০০ শতাংশ ইথানলে গাড়ি: ঘোষণা গড়করির
কী থাকছে নতুন এই উদ্যোগে? নতুন প্রযুক্তির এই ডাবল ডেকার বাসগুলি পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব হবে। নিগম সূত্রে খবর, প্রায় ১.৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক অথবা সিএনজি চালিত বাস কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এবারের উদ্যোগটি শুধুমাত্র শহরের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। কোচবিহার শহরের পাশাপাশি ডুয়ার্সের এক বিস্তীর্ণ পর্যটন অঞ্চলকেও যুক্ত করবে এই ডাবল ডেকার পরিষেবা। ফলে ডুয়ার্সে আসা পর্যটকদের কাছে এটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে। নতুন কোন কোন রুট দিয়ে এই বাস চালানো সবচেয়ে সুবিধাজনক এবং নিরাপদ হবে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সার্বিক সমীক্ষা বা রুট সার্ভে শেষ করেছে নিগম কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশ, বাড়ছে মৃত্যু মিছিল
আটের দশকে দোতলা বাসের ওপরের সিটে বসে জানলা দিয়ে বাইরে তাকানোর যে রোমাঞ্চ ছিল, নবপ্রজন্মের কাছে তা ছিল প্রায় অজানা এক গল্প। এই নতুন বৈদ্যুতিক বাস চালুর ফলে প্রবীণরা যেমন ফিরে পাবেন তাঁদের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি, তেমনই নতুন প্রজন্মও স্বাদ নিতে পারবে রাজকীয় ভ্রমণের।
সব মিলিয়ে, রাজপথে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ডাবল ডেকারের এই প্রত্যাবর্তন শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাকেই সহজ করবে না, বরং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাবে।
















