রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদ পাওয়ার বিষয়ে জোরালো সওয়াল করল রাশিয়া। পুতিনের দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যভুক্ত দেশের তালিকা আর কোনও পশ্চিমে দেশের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন নেই বরং এশিয়া, লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকার দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হোক । ভারত এবং ব্রাজিলের নাম করেছে রাশিয়া।

২০২২  সালে  অস্থায়ী সদস্য পদ শেষ মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারতের।  দীর্ঘদিন ধরেই ভারত চেষ্টা করছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের  নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে। এবার পুতিনের দেশের সমর্থন ভারতের আশা বৃদ্ধি করল। কিন্তু আমেরিকা কতটা সমর্থন করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে কারণ এশিয়ায় জাপান অনেক বেশি প্রিয় ট্রাম্পের।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং চিন। তা ছাড়াও ১০টি দেশ পর্যায়ক্রমে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দু’বছরের জন্য মনোনীত হতে পারে।

এদিকে, নাম না করে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানকে ফের তুলোধনা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। কড়া ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, সন্ত্রাসবাদীর বিরুদ্ধে ভারতের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে, যদি এই ক্ষেত্রে কেউ নিজেদের না শোধরা সে ক্ষেত্রে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার ভারতের আছে এবং ভালো ভালোভাবেই সেটা প্রয়োগ করবে। শুধু তাই নয় সন্ত্রাসদের যারা মদত দিচ্ছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে বলেও চড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী। 

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথম থেকেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল করতে থাকেন জয়শঙ্কর। এরপর পাকিস্তানের নাম না করে তিনি বলেন, গতকাল যে দেশটি ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছে তারাই এই সমাবেশে দাঁড়িয়ে তথ্য বিকৃত করছে তা সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক বলে চালানোর চেষ্টা করছে।  এর পরিণতি এড়ানোর জন্য নানা যুক্তি দিচ্ছে। কিন্তু এই যুক্তি ধূপে টিকবে না। আমাদের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সর্বদা  জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ সারা বিশ্বের শান্তির জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

 এখানেই শেষ না করে পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলে সরাসরি তিনি “বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে না।  এই ধরনের চিন্তা ভাবনার উপর ভিত্তি করে কখনই কোন চুক্তি স্বাভাবিক হয় না। সেটা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকে। যারা সন্ত্রাসবাদ চালায় সেই অপরাধীদের আগে ভুল শোধরাতে হবে।

 রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিজের ভাষনে পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তোলেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল আমাদের ২৬ অসামরিক নাগরিক এবং বেশিরভাগ পর্যটক নিহত হওয়ার পরেই ভারত অপারেশন সিদুঁর অভিযান  শুরু করেছিল। সেই অভিযানে পাকিস্তানে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক সন্ত্রাসবাদীর পরিকাঠামো ভারত গুরিয়ে দিয়েছিল। নিজের বক্তব্যে পাকিস্তানের নাম একবারের জন্য করেননি।  তবে জয়শঙ্করের নিশানায় ছিল ভারতের প্রতিবেশী দেশই।