"আমি বাবা মায়ের শত আদরের মেয়ে
আমি বড় হই, সকলেরভালবাসা নিয়ে
আমার দুচোখে অনেক স্বপ্ন থাকে
আমি পড়ালেখা শিখতে চাই।"
সেই ডানপিটে, বুদ্ধিমান ও সাহসী মেয়েটি, যে নিজের অধিকার আদায় করতে জানত। প্রতিটি মেয়েই নিজের মধ্যে একজন 'মীনা'কে খুঁজে পেত।

আমাদের চেনা সামাজিক বাস্তবতায় যেখানে কন্যা শিশুদের পদে পদে ‘না’ শুনতে হতো, সেখানে মীনা ছিল এক পশলা তাজা বাতাস। কন্যা শিশু দিবস এলেই চারপাশের সবাই হঠাৎ খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাসের বন্যা বয়ে যায়—"মেয়েরা হলো ঘরের লক্ষ্মী", "মেয়েরা হলো জান্নাতের আলো"। ব্যস, ওটুকুই! পরদিনই আবার সেই চিরন্তন দৃশ্য—ঘরের ছোট রাজকন্যাটি একটু জোরে হাসলে কিংবা ছাদে গিয়ে একটু দৌড়াদৌড়িতে মেতে উঠলে, ফিসফিসানি শুরু হয়, "আহা! মেয়ে মানুষের কি এত চঞ্চল হতে আছে? একটু শান্ত হও, মানিয়ে নিতে শেখো!"

কন্যা শিশু দিবসের (Girl Child Day) এই উজ্জ্বল সকালে যখন আমরা আমাদের কন্যাসন্তানদের ডানা মেলার স্বপ্ন দেখাচ্ছি, ঠিক তখনই সংবাদমাধ্যমের পাতায় এক হতাশাজনক খবর। বৈধ পাসপোর্ট, টিকিট ও কনফারেন্সে যোগদানের সব নথিপত্র থাকার পরও ঢাকার বিমানবন্দরে কেবল ‘অবিবাহিত‘ ও ‘অভিভাবক ছাড়া‘ ভ্রমণের অজুহাতে ৩ প্রাপ্তবয়স্ক তরুণীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আজকের এই বিশেষ দিনে এই ঘটনাটি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার এক চরম দ্বিচারিতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ছেলেরা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তাঁরা স্বাধীন পাখির মতো পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে একাই ছুটে যেতে পারেন; ইমিগ্রেশনে কোনও ছেলেই "অবিবাহিত" বা "অভিভাবক ছাড়া কেন ভ্রমণ করছে"—এমন অদ্ভুত ও বৈষম্যমূলক প্রশ্নের মুখোমুখি হয় না। কিন্তু একজন মেয়ে যত বড়ই হোক, শিক্ষিত বা স্বাবলম্বী হোক না কেন, তাকে প্রতি পদে পদে প্রমাণ করতে হয় তার সাথে কোনো পুরুষ অভিভাবক আছে কি না। 

এই খবরটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যতক্ষণ না ছেলেদের মতো মেয়েদেরও স্বাধীনভাবে চলার সমান অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের কন্যাসন্তানদের অধিকারের লড়াই পূর্ণতা পাবে না।

কন্যাসন্তানরা কোনো ‘পরের বাড়ির আমানত’ বা ‘বোঝা’ নয়; তারা এই সমাজের, এই দেশের সমান অংশীদার। আজকের এই কন্যা শিশু দিবসে আমাদের পোর্টালের পক্ষ থেকে একটাই আহ্বান—আসুন, ঘরের রাজকন্যাদের শুধু মুখে ‘লক্ষ্মী’ না বলে, কাজে-কর্মে তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করি। দিনশেষে, তাদের ওই বাধাহীন চওড়া হাসিটাই কিন্তু একটা পরিবারকে সবচেয়ে বেশি আলো দেয়!