১৯৯৫ সালের একটি খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল ক্রিস্টা পাইকের। প্রায় তিন দশক পর সেই সাজা কার্যকর করতে গিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়ল টেনেসি প্রশাসন। মৃত্যুদণ্ডের জন্য দু’দফায় পেন্টোবারবিটল প্রয়োগ করা হলেও মৃত্যু হয়নি ৫০ বছরের ক্রিস্টার। শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ঘটনাটি ঘিরে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি এবং আপাতত স্থগিত করা হয়েছে রাজ্যে চলতি বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ডগুলি।
ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে বুধবার রাতে শুরু হয়েছিল প্রক্রিয়াটি। প্রথম দফার ওষুধে পাইক অচেতন হয়ে গেলেও তাঁর হৃদ্স্পন্দন চলছিল। আইনজীবীদের দাবি, তখনও তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল এবং নাক ডাকছিলেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় দফায় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু তাতেও মৃত্যু না হওয়ায় পরিস্থিতি থামিয়ে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়ার মাঝখানে দু’বার পর্দা টানা এবং সাংবাদিকদের এক পর্যায়ে বাইরে পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
টেনেসির নিয়মে প্রথম দফার প্রাণঘাতী ওষুধ কাজ না করলে দ্বিতীয় দফা প্রয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দু’বার ওষুধ দেওয়ার পরও কোনও বন্দি জীবিত থাকলে কী করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশ নেই। পাইকের ঘটনায় সেই অস্পষ্টতাই সামনে এসেছে। রাজ্যের সংশোধন দফতর অবশ্য জানিয়েছে, কর্মীরা নির্ধারিত আইনি প্রোটোকল মেনেই কাজ করেছেন। গভর্নর লি এখন তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত করাচ্ছেন।
চিকিৎসা ব্যবস্থাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। পাইকের আইনজীবীদের নিযুক্ত চিকিৎসক জোয়েল জিভটের দাবি, তাঁর শরীরে পেন্টোবারবিটলের মাত্রা সম্ভবত শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছয়নি। চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এর আগে মে মাসে টেনেসিতে টোনি কারুথার্সের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা যায়নি শিরা খুঁজে না পাওয়ায় সেই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়েছিল। ফলে রাজ্যে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পাইকের মৃত্যুদণ্ডের পিছনে রয়েছে ১৯৯৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ড। তখন ১৮ বছরের পাইক ও তাঁর তৎকালীন প্রেমিক টাডেয়ারেল শিপ ১৯ বছরের কলিন স্লেমারকে হত্যা করেছিলেন বলে মামলায় প্রমাণিত হয়। একটি চাকরির প্রশিক্ষণ শিবিরে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। কলিনকে নিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধের পর হামলার ঘটনা ঘটে। হত্যার পর তাঁর শরীরে পেন্টাগ্রামের চিহ্ন আঁকা এবং মাথার খুলির একটি অংশ নিজের কাছে রাখার মতো ঘটনাও মামলায় উঠে আসে। ১৯৯৬ সালে পাইকের মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে তাঁর আইনজীবীরা কৈশোরে যৌন নির্যাতনের ইতিহাস এবং মানসিক অবস্থার মতো বিষয় বিবেচনা না করার অভিযোগ তুলে একাধিকবার সাজা বদলের চেষ্টা করলেও সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদনগুলি খারিজ করে।
















