‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি উঠে এসেছিল খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) মুখে। কখনও মোদির ‘দিমাগি নকশাল’, আবার কখনও নীতিনের ‘আর্বান নকশাল’! পদ্ম শিবিরের রাজনৈতিক বিরোধিতা করলেই মিলছে দেশবিরোধী তকমা। এবার সেই বিতর্ক আরও উসকে দিয়ে গোটা বিরোধী শিবিরকেই ‘আর্বান নকশাল’ বলে নিশানা করলেন বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আন্দোলন, সবকিছুর পিছনেই কি এবার বিদেশি শক্তির হাত খুঁজবে পদ্ম শিবির? বিরোধীদের কণ্ঠস্বরকে রাজনৈতিক যুক্তিতে মোকাবিলা করার বদলে দেশবিরোধিতার অভিযোগ তোলার এই প্রবণতা ঘিরেই নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: 'নোবেল আমারই প্রাপ্য’, শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ফের ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন নীতিন। রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ককরোচ জনতা পার্টিকে একযোগে আক্রমণ করে তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বিরোধীরা। শুধু তাই নয়, বিরোধীদের আন্দোলনের পিছনে বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। যদিও তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা নিয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
আরও পড়ুন: ‘মরেছে বলে কি হেনস্থাকারীর দোষ খতম?’ নানার প্রয়াণে শোক নয়, ‘অশুভের অবসান’ বলে তোপ দাগলেন তনুশ্রী
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের অগ্রগতি বিরোধীরা মেনে নিতে পারছেন না বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি নীতিনের। তাঁর বক্তব্য, দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে দু’টি বিরোধী গোষ্ঠী। একটির নেতৃত্বে রয়েছেন রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা। অন্য গোষ্ঠীর নেতৃত্বে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর সহযোগীরা। কারা বেশি অরাজকতা তৈরি করতে পারে, যেন সেই প্রতিযোগিতাই চলছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
নীতিন অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর হুঁশিয়ারি, বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতে অস্থিরতা তৈরির যে চেষ্টা বিরোধীরা করছেন বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, তা সফল হতে দেবে না বিজেপি। তাঁর দাবি, বিজেপি এবং দেশপ্রেমিক মানুষ এর জবাব দেবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা হলে কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে এবং বিজেপি কর্মীরা বিরোধীদের কথিত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করবেন।
তবে বিরোধীদের আন্দোলনকে এক কথায় ‘আর্বান নকশাল’ তকমা দেওয়া এবং তার সঙ্গে বিদেশি শক্তির যোগসূত্র টেনে আনার মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকছেই। কারণ, বিরোধীদের বক্তব্যের জবাব তথ্য ও যুক্তিতে দেওয়া হবে, নাকি তাঁদের দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলবে, গণতন্ত্রের পরিসরে সেই প্রশ্নই এখন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।















