‘মরেও আমার জান জ্বালিয়ে গেল, অপয়া-মহাশয়তান লোক একটা, মরেছে বলে কি হেনস্থাকারীর দোষ খতম?’— বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের (Nana Patekar) মৃত্যুর পর এভাবেই নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। গত ৮ অক্টোবর গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন নানা পাটেকর। তাঁর প্রয়াণে যখন গোটা বলিউড শোকস্তব্ধ, ঠিক তখনই উল্টো পথে হেঁটে অভিনেতাকে ‘শয়তান’ ও তাঁর মৃত্যুকে ‘ইভিল ডেড’ অর্থাৎ অশুভের অবসান বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তনুশ্রী।

আরও পড়ুন: মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে দেহ খুবলে খেল ইঁদুর, শুরু তদন্ত

অভিনেত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির প্রতি এমন আচরণের জন্য নেটিজেনদের একাংশের তীব্র ট্রোলিং ও সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তনুশ্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেউ মারা গেছেন বলেই তাঁর অতীতের অপরাধ ধুয়ে-মুছে যায় না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং ও সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তনুশ্রী দত্ত নিজের দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণা ও হেনস্থার কথা পুনরায় মনে করিয়ে দেন। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ঈশ্বরও কাউকে ক্ষমা করেন না যদি না সেই ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়। নানা পাটেকর বেঁচে থাকতে কখনও তাঁর কাছে ক্ষমা চাননি। “আমি যখন বলি অশুভের বা শয়তানের মৃত্যু হয়েছে, তখন সেটা আমার নিজের জীবনের চরম বাস্তবতা থেকেই বলি।”

আরও পড়ুন: মাত্র ১ টাকায় পাতে বিরিয়ানি-মিষ্টি! মহালয়া থেকেই কলকাতায় শুরু ‘আহার ক্যান্টিন’

২০০৮ সালের ঘটনার পর থেকে, বিশেষ করে ২০১৮ ও ২০২০ সালের পর তাঁর জীবনকে নরক বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সপ্তাহের ৫ দিন জিমে যাওয়া, নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ানো একটি মেয়ের জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তিনি প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। এমনকি তাঁর গাড়ির ব্রেক কেটে নেওয়া এবং বিষপ্রয়োগের মতো মারাত্মক ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ তোলেন তনুশ্রী।

তনুশ্রী দত্ত ও নানা পাটেকরের এই বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ (Horn 'Ok' Pleassss) ছবির একটি গানের শুটিং সেটে। তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, নানা পাটেকর শুটিং চলাকালীন স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অশালীন আচরণ করেন এবং জোর করে নাচের স্টেপ যুক্ত করতে বাধ্য করেন। আপত্তি জানিয়ে তনুশ্রী সেট ছাড়লে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। ঘটনার ১০ বছর পর ২০১৮ সালে তনুশ্রী পুনরায় এই বিষয়টি সামনে আনলে ভারতে ব্যাপক ‘#মিটু’ (#MeToo) আন্দোলনের জোয়ার আসে। বহু নারী কর্মক্ষেত্রে তাঁদের হেনস্থার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। নানা পাটেকর বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব দেখা দেওয়ায় এবং আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার কারণে আদালত মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেয়। তবে তনুশ্রীর দাবি, ক্ষমতার জোরে মামলাটি বন্ধ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ইমরানের মুক্তির দাবিতে অগ্নিগর্ভ পাকিস্তান, কার্যত দুর্গে পরিণত ইসলামাবাদ

মৃত অভিনেতার প্রতি তনুশ্রীর এমন সংবেদনহীন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চলচ্চিত্র কর্মীদের সংগঠন অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামলাল গুপ্ত তনুশ্রীর এই মন্তব্যকে ‘সস্তা প্রচার’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন। তবে বিনোদন জগতের একাংশ এবং বহু ভুক্তভোগী নেটিজেন তনুশ্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের মতে একজন নিপীড়কের মৃত্যু হলেও তাঁর দ্বারা সৃষ্ট ক্ষত কখনও মুছে যায় না।