বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি (Indian Economy) নিয়ে আশার আলো দেখছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (International Monetary Fund)। চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করার পূর্বাভাস দিল আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। অর্থাৎ, আগের হিসাবের তুলনায় ভারতের অর্থনীতি আরও দ্রুত গতিতে এগোতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ।

আরও পড়ুন: পুজোয় ভিড় সামলাতে নিরাপত্তায় এআই ক্যামেরা! শিয়ালদহে তৈরি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’

সংস্থার সাম্প্রতিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক রিপোর্টে (World Economic Outlook Report) এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। শুধু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ নয়, পরের অর্থবর্ষেও ভারতের বৃদ্ধির গতি বজায় থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এর আগে এই হার ৬.৭ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিল আইএমএফ।

আরও পড়ুন: কোর্ট ফি বকেয়াসহ রাহুলের মামলায় ১৪টি ত্রুটি!

ভারতের অর্থনীতি নিয়ে এই ইতিবাচক পূর্বাভাস অবশ্য একা আইএমএফ দিচ্ছে না। কিছু দিন আগেই চলতি অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানের ছবিই আরও স্পষ্ট হল।

কেন ভারতের অর্থনীতিতে এতটা ভরসা আইএমএফের? এর পিছনে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্তি। আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভারতে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা যথেষ্ট ভাল। সাধারণ মানুষের খরচ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ধারাবাহিক উন্নতি অর্থনীতির বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি, দেশের বৃহৎ জনসংখ্যা ও বিস্তৃত বাজারও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফলও বৃদ্ধির গতিকে শক্তিশালী করছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাব্যঞ্জক ছবি সামনে এলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি আমেরিকা-ইরান সংঘাত ঘিরে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার প্রভাব পড়ছে অপরিশোধিত তেলের দামেও। আর ভারত যেহেতু জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আইএমএফের হিসাব বলছে, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫.৭৪ ডলারে পৌঁছতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় যা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। তবে ২০২৭ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। সে বছর তেলের গড় দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নামার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।


ভারতের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হলেও বিশ্বের একাধিক বড় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক আইএমএফ। চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সম্মিলিত আর্থিক বৃদ্ধির হার ২০২৬ সালে ৩.৭ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এর আগে এই হার ৩.৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

অন্যদিকে, ইউরোপের দুই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি জার্মানি ও ব্রিটেনের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। জার্মানির বৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও আগের ১ শতাংশের অনুমান সংশোধন করে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে।