আমেরিকায় (America) বিনোদন পার্কে বেড়াতে গিয়ে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। রোলারকোস্টার (Roller Coaster)  থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু (Death) হয়েছে এক ব্যক্তির। আহত অনেকে। ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার জর্জিয়া (Georgia) প্রদেশের সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া থিম পার্কে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।


অ্যাটলান্টা শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই বিনোদন পার্ক। দুর্ঘটনার পর পার্কের ওই রাইড থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেইসঙ্গে সেটিকে সাময়িক ভাবে বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে। কোব কাউন্টি পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিট ঘটনার তদন্তে নেমেছে। কীভাবে রোলারকোস্টার থেকে পড়ে গেলেন ওই ব্যক্তি তা স্পষ্ট নয়। আহদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। সেইসঙ্গে ওই রোলারকোস্টারটি আচমকাই কেন বিকল হল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই পুরো দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি পার্ক কর্তৃপক্ষ। 

আরও পড়ুন: একাধিক দেশকে হুমকি দিয়ে নিজেই রাশিয়া থেকে তেল কিনে 'গলাবাজি' ট্রাম্পের!

পার্কের তথ্য অনুযায়ী, ওই রোলার কোস্টারটি ২০০৬ সালে চালু হয়েছিল। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু এই রাইডের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৭০ মাইল, অর্থাৎ প্রায় ১১৩ কিলোমিটার। দ্রুত গতি, খাড়া উতরাই এবং একাধিক বাঁকের কারণে এটি পরিচিত। যদিও দুর্ঘটনাটি এই রোলার কোস্টারেই ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনার পর বিবৃতি দিয়ে শোকপ্রকাশ করেছে সিক্স ফ্ল্যাগস কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, পার্কের কর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তদন্তে পুলিশকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অতিথি এবং কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

এ দিকে, দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তরফে জানান হয়েছে, এই দুর্ঘটনার জেরে সিক্স ফ্ল্যাগসের ছ’টি পার্কে মোট ন’টি রোলার কোস্টার সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাইডের মতো একই ধরনের আকর্ষণগুলির নিরাপত্তা পরীক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত। এই ঘটনা বিনোদন পার্কের রাইডগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, পরিচালনগত সমস্যা নাকি অন্য কোনও কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশের তদন্ত শেষ হলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।