প্রশান্ত মহাসাগরের জলতল এবং অতল গভীরে নজিরবিহীন তাপমাত্রা বৃদ্ধির জেরে আশঙ্কাজনক ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো। পেরুর উপকূল থেকে শুরু করে পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে জলের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা দেখে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে আবহাওয়াবিদদের। সমুদ্রের উপরিভাগের পাশাপাশি গভীর স্তরেও পারদ যেভাবে চড়েছে, তাতে আগামী কয়েক মাসে পৃথিবীর নানা প্রান্তে খরা, অতিবৃষ্টি এবং মারাত্মক তাপপ্রবাহের মতো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা।
জলবায়ু বিজ্ঞানীদের একাংশের পর্যবেক্ষণ, এবারের এল নিনোর চরিত্র বেশ ব্যতিক্রমী। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলেও এ বার গভীর জলের উষ্ণতাও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। পেরুর উপকূলের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বোচ্চ ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি নথিভুক্ত হয়েছে। এমনকি সমুদ্রের গভীরে এই তাপমাত্রার ফারাক স্বাভাবিকের চেয়ে ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ১৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত জলের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। পরিস্থিতি বিচার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে নথিভুক্ত হওয়া অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে এটি আত্মপ্রকাশ করার সম্ভাবনা প্রায় ৮৩ শতাংশ। এই প্রভাব আগামী বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।
সমুদ্রের এই উষ্ণায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চক্র বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর জেরে পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন ভয়াবহ খরা ও শুষ্ক পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, ঠিক তখনই অন্য প্রান্ত ভাসতে পারে অতিবৃষ্টি ও বন্যায়। পাশাপাশি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের, কারণ অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনা এবং বর্ষার ঘাটতি দেখা গিয়েছে। যদিও সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও অন্যান্য জলবায়ুগত চলক সমান গুরুত্বপূর্ণ, তবুও প্রশান্ত মহাসাগরের বর্তমান পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নিতে নারাজ আবহাওয়া দফতর। পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন গবেষকরা।















