নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটনের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কোয়ারে আছড়ে পড়ল দুর্গাপুজোর মহাসিন্ধু। সুদূর প্রবাসে এসেও বাঙালির প্রাণের উৎসবকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করল নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার দুর্গোৎসব। চোখ ধাঁধানো নিয়ন আলো আর সুবিশাল বিলবোর্ডের মাঝেই ঢাকের আওয়াজ, শাঁখের ধ্বনি আর ধুনুচি নাচে মেতে উঠলেন হাজার হাজার প্রবাসী বাঙালি।

আরও পড়ুন: খাবারের ওপর সাইবার হামলা! হ্যাকারদের তাণ্ডবে পুড়ল ফ্রান্সের সুপারমার্কেট

খারাপ আবহাওয়া ও বৃষ্টির ভ্রূকুটিকে উপেক্ষা করেই টাইমস স্কোয়ারের ফাদার ডাফিজ স্কোয়ারে (Father Duffy Square) জড়ো হয়েছিলেন দুই বাংলার বাঙালি ও আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা। নিউ ইয়র্কের এই চত্বরটি সাময়িকভাবে যেন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো কলকাতা।

নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার দুর্গোৎসব অ্যাসোসিয়েশন (Times Square Durga Utsav Association) আয়োজিত এই দু’দিনের উৎসবে মেতে ওঠে আমেরিকার প্রবাসী বাঙালিরা। উৎসবের দিনগুলিতে আকাশ মেঘলা এবং আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও, উৎসবের উন্মাদনায় তার কোনও প্রভাব পড়েনি। ঐতিহ্যবাহী লাল পেড়ে সাদা শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সেজে আট থেকে আশি—সবাই সামিল হয়েছিলেন পুজোর আনন্দে।

আরও পড়ুন: নতুন শিল্প বিনিয়োগ টানতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ রাজ্যের

এবারও নিউ ইয়র্কের এই উৎসবে লক্ষ্য করা গেছে এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতি। ভারতের কনসাল জেনারেল বিনয় প্রধান এবং রাষ্ট্রসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে উৎসবের মঞ্চ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল আমেরিকায় দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাঙালি সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা ৬টি অগ্রণী প্রবাসী সংগঠনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। সম্মানিত হওয়া সংগঠনগুলি হল বে এরিয়া প্রবাসী ইনকর্পোরেটেড, বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার শিকাগো, বেঙ্গলি কালচারাল সোসাইটি, ইস্ট কোস্ট দুর্গাপুজো অ্যাসোসিয়েশন, কল্লোল এবং প্রগতি। 

আরও পড়ুন: বিরোধীদের বিক্ষোভের মাঝেই আচমকাই পদত্যাগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

সকাল থেকেই শুরু হয়েছিল দেবীর পুজো, পুষ্পাঞ্জলি আর আরতি। আর বিকেল গড়াতেই টাইমস স্কোয়ারের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে বাংলা লোকগান, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও আধুনিক গানের সুরে। প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কচিকাঁচাদের সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্স উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করে নেয়। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ঢাকের বোলে ধুনুচি নাচ, যা দেখতে শুধু বাঙালিরাই নন, বহু বিদেশি পর্যটকেরাও দাঁড়িয়ে পড়েন এবং মোবাইলের ক্যামেরাবন্দি করেন এই রঙিন মুহূর্ত।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এবং বিখ্যাত মোড়ে দাঁড়িয়ে মায়ের আরাধনা করতে পেরে প্রবাসীদের চোখেমুখে ছিল গর্ব ও আনন্দের মিশ্রণ। এই আয়োজন প্রমাণ করে দিল, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই হোক না কেন, বাঙালির উৎসবের উন্মাদনা আর মায়ের প্রতি টানকে কোনও সীমানায় বেঁধে রাখা সম্ভব নয়।