ফ্রান্সজুড়ে শত শত সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন সিস্টেমে এক নজিরবিহীন সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হ্যাকাররা দূর থেকে ফ্রিজ ও ফ্রিজারগুলির তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে লাখ লাখ ইউরোর তাজা ও হিমায়িত খাদ্য। প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় এই ঘটনাকে একটি “বড় ধরনের পরিকল্পিত সাইবার হামলা” হিসেবে আখ্যায়িত করে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: এজলাসে বসার আগে রক্তদান! কলকাতা হাইকোর্টে বিরল নজির প্রধান বিচারপতির

ফরাসি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা (ANSSI) এবং সরকারি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ডেনমার্কের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ড্যানফস (Danfoss)-এর তৈরি রেফ্রিজারেশন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের একটি পুরনো সংস্করণের নিরাপত্তা ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা এই হামলা চালায়।

সুপারমার্কেটের এই কুলিং সিস্টেমগুলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যেত। হ্যাকাররা মাঝরাতে সেই সুযোগ নিয়ে ফ্রিজগুলির ডিফ্রোস্ট অর্থাৎ বরফ গলানোর চক্র চালু করে দেয় এবং স্বাভাবিক অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা এড়াতে সেই চক্রের সময়সীমা ১ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত করে রাখে।

আরও পড়ুন: গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে সামনে রেখে এবার কামতাপুরের দাবিতে সরব KPP

এই সাইবার হামলায় ফ্রান্সের প্রায় ৫০০টি আউটলেট সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টারমার্শে ও নেট্টোর প্রায় ৩০০টি দোকান। কো-অপারেটিভ ইউ-এর ১০০টিরও বেশি বিক্রয়কেন্দ্র। ক্যারফোরের ৮০টির মতো আউটলেট। এছাড়াও ই-লেক্লের্ক ও মনোপরিক্সের মতো নামী চেইন শপগুলি এই হামলার শিকার হয়েছে।

দেশটির খুচরা বিক্রেতা সমিতির মতে, এই একটি মাত্র ঘটনার কারণে দেশজুড়ে কয়েক কোটি ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সমস্ত গলে যাওয়া ও নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন সুপারমার্কেটের কর্মীরা। কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত গরমের কারণে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

আরও পড়ুন: উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ১০০ অ্যাকাউন্ট বন্ধ! সমাজমাধ্যমে জোর নজরদারি দিল্লি পুলিশের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য ও কৃষি কমিশনার ক্রিস্টফ হ্যানসেন (Christophe Hansen) এই নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “খাদ্য নিরাপত্তায় এখন সব স্তরে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ খাদ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”

একই সঙ্গে এই হামলার প্রভাব স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, জার্মানি এবং বেলজিয়ামের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই ফরাসি কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।