জনগণনার কাজের প্রেক্ষিতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষা আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ জারি করল স্কুলশিক্ষা দফতর। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, যাঁরা ইতিপূর্বে বদলির অনুমোদনপত্র পেয়েছেন, তাঁদেরও এই সময়সীমার মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও ‘রিলিজ অর্ডার’ দিতে পারবে না। ক্ষেত্রসমীক্ষার কাজে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিকাশ ভবন সূত্রে খবর। তবে নির্দেশিকার সময়সীমা এবং এর প্রভাব নিয়ে শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, জনগণনা একটি সুনির্দিষ্ট ও জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। সমীক্ষার কাজ চলাকালীন শিক্ষক বা কর্মীদের বদলি হলে মাঠপর্যায়ের কাজের গতি ব্যাহত হতে পারে। সেই প্রশাসনিক প্রয়োজন মাথায় রেখেই সাময়িক ভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

অন্য দিকে, শিক্ষক প্রতিনিধিদের একাংশ এই স্থগিতাদেশের সময়সীমা নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য, জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ শেষ হওয়ার কথা ১৫ সেপ্টেম্বর। সেই জায়গায় বদলি স্থগিত রাখার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোয় মিউচুয়াল ট্রান্সফার বা আপস বদলির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন বা পর্ষদের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছেন না।

পাশাপাশি ‘শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ’-এর মতো সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁরা সরাসরি এই সুমারির কাজে যুক্ত নন, পোর্টাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে তাঁদেরও প্রক্রিয়াটি থমকে রয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের পূর্ববর্তী এক নির্দেশনায় পঠনপাঠন স্বাভাবিক রেখে সুমারির কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে বদলি প্রক্রিয়া এবং স্কুলের নিয়মিত পঠনপাঠনের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় বজায় রাখার পাশাপাশি দ্রুত নতুন এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) কার্যকর করার আর্জি জানিয়েছেন শিক্ষক মহলের একাংশ।