আমিষ খাওয়া বাঙালীকে পাখণ্ডী (ভণ্ড) বলা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার (Bageshwar Baba) ছবি পোড়ানোয় গ্রেফতারির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার, বিধানসভায় ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ(সংশোধন) বিল ২০২৬’ পেশের জন্য বিশেষ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এ রাজ্যে এসব চলবে না। অনেক করেছেন এসব। তুষ্টিকরণের রাজনীতি অনেক হয়েছে।"
এদিন ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ(সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে বক্তৃতা করতে উঠেই বাগেশ্বর বাবার পক্ষ নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। বলেন, "আমাদের লিলুয়াতে একজন সন্ত এসেছিলেন। সন্তের মতোই তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ঐতিহ্য সংস্কৃতির কথা বলেছেন তাঁর মতো করে। যাঁরা গ্রহণ করার করবেন, যাঁরা করার নয় করবেন না। তিনি কারও উপর চাপিয়ে দিতে চাননি। আমি কতগুলো লোককে দেখলাম ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পুড়িয়েছে। এখান থেকে সিপি-কে (CP) বলছি, ওই লোকগুলোকে অ্যারেস্ট করতে হবে।"
জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় সভায় যোগ মধ্যপ্রদেশের স্বঘোষিত বাগেশ্বর বাবা। পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান তিনি। সেদিনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী মন্তব্য করেন, "যাঁরা দুর্গাপুজো সময়ে প্যান্ডেলের পিছনে গিয়ে নোংরা নোংরা আমিষ খাবার খান, তাঁরা পাষণ্ড।" এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যজুড়ে। বাঙালির দুর্গাপুজোর খাবার নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ ওঠে বিভিন্ন মহলে। এমনকী শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপি নেতৃত্বও বাঙালির খাদ্যাভাসের পক্ষেই সওয়াল করেন। বাঙালির আবেগে আঘাত লেগেছে- এই অভিযোগে ভবানীপুরে বিক্ষোভে সামিল হয় কংগ্রেস। ভবানীপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ান কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। বাগেশ্বরবাবার বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়।
এদিন বিধানসভায় সেই প্রসঙ্গও তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কতগুলো লোককে দেখলাম, ভবানীপুরে থানার সামনে ছবি পুড়িয়েছে। আমি এখান থেকে সিপি-কে বলছি, ওই লোকগুলোকে গ্রেফতার করতে হবে। এ রাজ্যে এসব চলবে না। অনেক করেছেন।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “তিনি তো কারোর ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি। যাঁর গ্রহণ করার করবেন, যাঁর গ্রহণ করার করবেন না।”
















