এমবিবিএস পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে ছাত্রীদের তল্লাশি করতে গিয়ে শালীনতার সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠল কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে। অভিযোগ, অন্তর্বাসে হাত দিয়ে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ছাত্রীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে নিযুক্ত মহিলা সুরক্ষাকর্মীরা। এর জেরে পরীক্ষার হলে ঢুকতেও অনেক পরীক্ষার্থীর দেরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়।

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পাঠ্যক্রমের অ্যানাটমি পরীক্ষা ছিল। বেলা ১১টা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকায় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ছাত্রীদের একটি নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালানো শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময়েই মহিলা সুরক্ষাকর্মীরা নিয়মবহির্ভূত ও আপত্তিজনক ভাবে শারীরিক তল্লাশি চালান। এমনকি ঋতুস্রাব চলাকালীন স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় বলে কিছু ছাত্রী অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনার জেরে সুরক্ষাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রীদের বচসাও বাধে। সামাজিক মাধ্যমেও ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সোমবারে হওয়া ফিজিওলজি পরীক্ষার আগে তৎপর হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবারের ঘটনায় অভিযুক্ত সুরক্ষাকর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে নতুন রক্ষী মোতায়েন করা হয়। ফলে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনের পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে।

ন্যাশনাল মেডিক্যালের অধ্যক্ষা সুস্মিতা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ছাত্রীদের তরফে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, তল্লাশির একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও শালীনতাবোধ থাকে, কোনও ভাবেই তা অতিক্রম করা কাম্য নয়। তিনি গোটা বিষয়টি লিখিত ভাবে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুকুল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে উপযুক্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে।