পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও রাজ্যজুড়ে সবুজায়নের প্রসার ঘটাতে একযোগে ৪০ হাজার গ্রামে ৪০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের মেগা কর্মসূচি হাতে নিল পঞ্চায়েত দফতর। গ্রামীণ স্তরে এই সুবিশাল প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে রূপায়ণে বনদফতরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, গ্রামীণ রোজগার বাড়াতে এবং কর্মসূচির সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করতে ১২৫ দিনের কাজের শ্রমিকদের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হবে। রোপণ থেকে শুরু করে গাছের নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব সামলাবেন তাঁরা এবং তার জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকও পাবেন।

তবে সবুজায়নের উদ্যোগের পাশাপাশি বেআইনিভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধেও চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন মন্ত্রী। তাঁর সাফ বার্তা, রাজ্যে বেআইনি বৃক্ষছেদন কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। কোথাও এমন অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ্যে এলেই প্রশাসন রেয়াত না করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করবে।

শুধু বৃক্ষরোপণেই সীমাবদ্ধ না থেকে জঙ্গলমহল ও অন্যান্য সংবেদনশীল গ্রামীণ অঞ্চলে বুনো হাতির উপদ্রব রুখতেও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। লোকালয়ে হাতির দলের অনধিকার প্রবেশ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখায় গাছ লাগানোর পাশাপাশি গভীর ও চওড়া নালা তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গক্রমে সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যসুরক্ষা ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে রেস্তরাঁ ও হোটেলগুলিতে চলা প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, উপযুক্ত লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনও হোটেল বা রেস্তরাঁ চালানো যাবে না। নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান যেমন জারি রয়েছে, আগামী দিনগুলিতেও তা সমানে বহাল থাকবে।