বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করে লাগাতার অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, গত চার মাস ধরে এলাকাভিত্তিক হিংসার শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। অনেকের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে, কর্মহীন হয়ে ঘরছাড়া বহু মানুষ। এমনকি বারুইপুর, হালিশহর ও বাকড়াহাটে পরপর তিনটি পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাতেও মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বুধবার ফের রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। ঘরছাড়াদের অবিলম্বে ঘরে ফেরাতে পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন কমিশন-প্রধান।
বুধবার দুপুরে সল্টলেকে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দফতরে গিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তৃণমূলের তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও রত্না শূর। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে যাঁরা এলাকাছাড়া হয়েছেন, যাঁদের বসতবাড়ি কিংবা ব্যবসা চুরমার করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের এলাকাভিত্তিক বিস্তারিত তালিকা এদিন কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, পুলিশ ও প্রশাসনকে অবিলম্বে ঘরছাড়াদের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।” একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য পুলিশ-প্রশাসন ঠিক কী পদক্ষেপ করেছে, তা ডিজি ও সিপি-কে লিখিত রিপোর্ট দিয়ে কমিশনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন রাজ্যে একের পর এক পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও সরব হয় তৃণমূল প্রতিনিধি দল। এই বিষয়ে কমিশন ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছে। কুণাল জানান, পুলিশি রিপোর্ট জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এর পাশাপাশি হেফাজতে থাকাকালীন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কোমরে দড়ি বেঁধে এবং খালি গায়ে প্রকাশ্যে ঘোরানোর যে অভিযোগ তৃণমূল তুলেছিল, সেই সংক্রান্ত পুলিশের দাখিল করা ব্যাখ্যাকে এদিন তীব্র কটাক্ষ করেন কুণাল। তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনের কাছে রিপোর্ট দিয়ে দাবি করেছে যে চরম গরমের কারণেই নাকি ধৃতেরা স্বেচ্ছায় জামা পরতে চাননি— যা এক কথায় হাস্যকর এবং আসল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
















