গেরুয়াকে অপমান করলে শিকড়-সহ উপড়ে ফেলা হবে- গোলপার্ক থেকে এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত 'গেরুয়া সম্মান যাত্রা' শেষে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। বুধবার মিছিল শেষে এইট বি-র মঞ্চ থেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। বলেন, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগান কিংবা গেরুয়াকে অপমান, কোনওটাই বাংলার মাটিতে বরদাস্ত করা হবে না। যারা গেরুয়াকে অসম্মান করবে, তাদের শিকড়-সহ উপড়ে ফেলার শপথ নিয়েছেন বলেও জানালেন তিনি।
বুধবার দুপুরে গোলপার্ক (Golpark) থেকেই শুরু হয় গেরুয়া সম্মান যাত্রা। গেরুয়া পতাকা হাতে পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কার্তিক মহারাজ, ছিলেন উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ, দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য, দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় (MLA Sharbari Mukhopadhyay) ও মন্ত্রী তাপস রায় (Minister Tapas Roy)। গেরুয়া পতাকা হাতে সাধু-সন্তদের নিয়ে সাধু-সন্তদের পাশাপাশি মিছিলে যোগ দেন রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকরাও। মিছিল যত এগিয়েছে, ততই বদলেছে যাদবপুরের ছবিটা। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে রাস্তা। শেষ পর্যন্ত মিছিল এসে পৌঁছয় এইট বি বাসস্ট্যান্ডে। সেখানেই তৈরি করা হয়েছিল সভামঞ্চ। মিছিল পৌঁছনোর পর ‘বন্দে মাতরম’ গানেও অংশ নেন উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।
এরপর সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যাদবপুরকে ঘিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান, কিষাণজিকে ‘রেড স্যালুট’ দেওয়ার অভিযোগ এবং গেরুয়া নিয়ে আপত্তিকর লেখার প্রসঙ্গ। এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, “আমি শপথ নিয়েছি এই যাদবপুরে যেখানে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (Centre of Excellence), যেখানে ঋষি অরবিন্দের ভূমি, এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষাণজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের আর যারা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন তাদের শিকড়-সহ তুলে ফেলব আমি।” এরপর নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১১ সালে কমিউনিস্টদের সরানোর সংকল্প এবং ২০২৬ সালে মোদির নেতৃত্বে সরকার গঠনের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “আপনারা জানেন ২০১১-তে পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ছাব্বিশে তৃণমূল সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে।”
গেরুয়া সম্মান যাত্রার শেষ পর্বে সমর্থকদের উদ্দেশে আরও রাজনৈতিক বার্তা দেন শুভেন্দু। বাংলার মাটিতে গেরুয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার কথা বলতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং প্রণবানন্দের নাম উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আপনারা সঙ্গে থাকুন। স্বামী বিবেকানন্দের মাটি, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই হবে।”
গোলপার্ক থেকে এইট বি পর্যন্ত পদযাত্রার পর যাদবপুরের (Jadavpur) মঞ্চে শুভেন্দুর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। গেরুয়ার মর্যাদা এবং ‘দেশবিরোধী’ স্লোগানের প্রশ্নে নিজের অবস্থান যে কঠোরই থাকছে, এদিনের কর্মসূচি থেকে সেই বার্তাই দিলেন তিনি।
















