শিক্ষক দিবস উপলক্ষে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন ঘিরে জলপাইগুড়ি ( Jalpaiguri) জেলা স্কুলে প্রধানশিক্ষককে হেনস্থার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল স্কুল শিক্ষা দফতর ( Education Department)। ঠিক কী ঘটেছিল, কেন পড়ুয়াদের একাংশ প্রধানশিক্ষককে ( Teacher Harresment) ঘিরে বিক্ষোভ ও মারধরে জড়িয়ে পড়ল, ঘটনার আগে স্কুলে কোনও সমস্যা বা অভিযোগ তৈরি হয়েছিল কি না সবটাই খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ির ( Jalpaiguri) জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে গোটা ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্কুল শিক্ষা দফতরের সচিব বিনোদ কুমার। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন: সাঁতরাগাছির মুখে থমকে ট্রেন, ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন ধরে হেঁটেই স্টেশনের পথে যাত্রীরা

ঘটনার সূত্রপাত শিক্ষক দিবসের খাওয়াদাওয়া ঘিরে। গত শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস ( Teachers Day)। তবে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে সেই উপলক্ষে পড়ুয়াদের জন্য খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিলেন শিক্ষকরা। দশম শ্রেণির কয়েক জন পড়ুয়ার অভিযোগ, ওই আয়োজনে তাদের হিসাবের মধ্যে রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েক জন পড়ুয়া। এরপরই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।

শিক্ষকদের দাবি, একদল দশম শ্রেণির পড়ুয়া প্রধানশিক্ষক ধর্মচাদ বারুইকে মারধর শুরু করে। ঘটনায় তাঁর কপাল ফেটে যায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যান তিনি। আহত প্রধানশিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশের গাড়িও আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত প্রধানশিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর আঘাত কতটা গুরুতর, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনায় কোন কোন পড়ুয়া সরাসরি মারধরে জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ( Police)।

এই ঘটনার পরই শিক্ষা দফতরের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের স্পষ্ট বার্তা, তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বা কোনও ধরনের অনিয়ম সামনে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের দফতরকে জানানো হয়েছে।