বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে ফের তোলাবাজির অভিযোগ। শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার নিচুতলার নেতা-কর্মীদের তোলাবাজি থেকে বিরত থাকার বার্তা দিলেও তা মানতে নারাজ অনেকেই। এবার নিমতা (Nimta) ও বরাহনগরের (Baranagar) পরপর দু’টি ঘটনায় সেই নির্দেশ নিয়েই উঠল প্রশ্ন। কোথাও জমি-বাড়ি কেনার পর ৩-৪ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বাড়ি তৈরির সময় বৃদ্ধার কাছ থেকে ‘পার্টি ফান্ড’-এর নামে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে। দুই ঘটনাতেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বমঞ্চে বাংলার দুর্গাপুজো, ১০ হাজার প্রবীণদের নিয়ে বিশেষ ‘প্রিভিউ ট্যুর’ আদানির
নিমতার ফতুল্লাপুর বিবেকানন্দপল্লিতে অভিযোগের কেন্দ্রে স্থানীয় একটি ক্লাব। আশাকর্মী সবিতা চক্রবর্তী এবং তাঁর স্বামী কৌশিকের দাবি, গত মে মাসে ২ কাঠা ১১ স্কোয়ারফুট জমি-সহ একটি বাড়ি কেনার পরেই তাঁদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া শুরু হয়। বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের তরফে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ দম্পতির। টাকা না দিলে বিপদে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় তাঁদের।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে আইনি সুরক্ষা খারিজ! অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি থেকে আপ্তসহায়ক সুমিতকে গ্রেফতার করল CID
৫ সেপ্টেম্বর ক্লাবের লেটারহেডে তাঁদের উদ্দেশে হুমকি দেওয়া একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপরই ক্লাবের সম্পাদক সন্দীপ পোদ্দার, ক্লাবের কর্মকর্তা তথা বিজেপি নেতা সৌরভ পোদ্দার-সহ চারজনের বিরুদ্ধে নিমতা থানায় অভিযোগ করেন সবিতা। টাকা চাওয়ার অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সন্দীপের দাবি, সবিতা যে জমিটি কিনেছেন, তার আগের মালিক বাংলাদেশের নাগরিক। এসআইআর চলাকালীন ওই ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কেনা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ওই জমি সরকারের হাতে থাকা উচিত অথবা এলাকার মন্দির কিংবা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা উচিত। জমি সংক্রান্ত তথ্য জানতে আরটিআই করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: 'বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিল পছন্দ না হলে চাকরি ছেড়ে দিন', বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
বিজেপি নেতা সৌরভ পোদ্দারেরও দাবি, তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সবিতার পাল্টা প্রশ্ন, আগের মালিক যদি বাংলাদেশি নাগরিকই হন, তা হলে সরকারি নিয়ম মেনে জমিটি কীভাবে রেজিস্ট্রি হল? তাঁর দাবি, হুমকি চিঠি-সহ সমস্ত নথি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২ দিনে শহরে বাতিল ৬৫ দোকানের ফুড লাইসেন্স! তালিকায় চাং ওয়া- আলিশানও
নিমতার এই অভিযোগের মধ্যেই বরাহনগরেও আরেক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধা সুমিত্রা দাস জানিয়েছেন, নিজের গয়না বিক্রি করে তিনি বাড়ির দোতলা তৈরির কাজ করছিলেন। অভিযোগ, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বিজেপি নেতা সুরজিৎ দাসের নেতৃত্বে তাঁর কাছ থেকে ‘পার্টি ফান্ড’-এর জন্য ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বৃদ্ধার অভিযোগ, সুরজিতের অফিসে ডেকে নিয়ে একটি কাগজে জোর করে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়েছিল। টাকা ফেরতের দাবিতে বরাহনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের তদন্তে মঙ্গলবার সুরজিৎ এবং তাঁর এক সহযোগীকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত সুরজিতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরপর দুই এলাকায় বিজেপি নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ সামনে আসায় ফের আলোচনায় দলের নিচুতলার কাজকর্ম। শীর্ষ নেতৃত্বের ‘তোলাবাজি বরদাস্ত নয়’ বার্তার পরেও কেন বারবার এমন অভিযোগ উঠছে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
















