‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ বিল ২০২৬’ বিধানসভায় (Assembly) পেশ করে বামেদের তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhiakari)। বুধবার গেরুয়া সম্মান মিছিলের পরে বৃহস্পতিবারের বিশেষ অধিবেশনে বামেদের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এক শ্রেণির শিক্ষক বামপন্থী জামা গায়ে লাগিয়ে দেশ, রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাই এই আইনের প্রয়োজন ছিল।” এর পরেই দুর্গাপুজোয় (Durga Pujo) বামেদের স্টল নিয়ে নয়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ”দুর্গা পূজা না লিখে শারোদৎসব লিখলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের একটা স্টলও করতে দেবেন না।”
এদিন ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল পেশ করতে গিয়ে ছত্রে ছত্রে বামেদের আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বিল প্রসঙ্গে বিধানসভায় সিপিএমের একমাত্র বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, শিক্ষায় গৈরিকীকরণ চলছে। এর পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”কবে কী করেছিলেন আপনারা! এই নামধারী জুটার (Jadavpur University Teachers' Association) লোকেরা—কী কী করেছিলেন, সব ইতিহাস আমাদের কাছে আছে।”
এর পরেই সরাসরি বামপন্থী শিক্ষকদের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আমরা এই বিল প্রয়োগ করব আমাদের নতুন তৈরি হওয়া ইউনিভার্সিটিগুলোতে (university)। নিজেদের তথাকথিত পণ্ডিত দাবি করা এই মানুষদের আমরা সেখানে পাঠাব, যাতে তাঁরা গিয়ে ওই দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শক্তিশালী করে আসেন। কমরেড লেনিন, মার্ক্স, চে গুয়েভারা, সমাজতন্ত্র, 'কৃষকের রাজত্ব হোক, শ্রমিকের রাজত্ব হোক', 'সকলের সমান রোজগার চাই'—এত জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যখন রয়েছে, তবে পুরনো আটটি বড় ও প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মেধা নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে লাগাতে আপত্তি কোথায়? এতে নতুন ছোট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিকশিত হবে।” নতুন বিল প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “যাঁদের অসুবিধা হবে ছেড়ে দিন। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে হোল্টাইমার হয়ে যান। গণশক্তি বিক্রি করুন। ধর্মতলায় কৌটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বেছে বেছে সনাতনীদের নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “কপালে টিপ পরলে, মাথায় শিখা রাখলে, গলায় তুলসীর মালা পরলে টার্গেট করেন।” এর পরেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান সাফ জানান, “কিষেনজির নাম লিখতে দেব না। এক শ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করেন। যে যার ধর্ম পালন করেন, কেউ বাধা দেয় না।”
দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে গণশক্তি ও বামের বইয়ের স্টলকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “সনাতন ধর্মটাকে আপনারা কালচারাল মনে করেন। দুর্গাপূজা বলেন না, শারোদৎসব বলেন। সব পুজো কমিটিকে বলে দেব, দুর্গা পূজা না লিখে শারোদৎসব লিখলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের একটা স্টলও করতে দেবেন না।”
বামেদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের যে বীজ পুঁতেছেন বাংলায়… এই বীজ তুলে ফেলার সঠিক সময় এটা। তিন মাস যুদ্ধ হয় হবে।” তাঁর অভিযোগ, “গরিবের টাকা মেরে ২৫০০ পার্টি অফিস বানিয়েছেন। গোটা পরিবারকে চাকরি দিয়েছেন। এক একজন সিপিএম নেতার বাড়ির ২০ জন করে লোক চাকরি করেন। সব তালিকা বের করব। শারদ উৎসব, শারদ সংখ্যা, এসবের শেষ।”
রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ”কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরের বাইরে গিয়ে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মিছিল করুন। আর মিছিলে ভারতের জাতীয় পতাকা রাখবেন। 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' বললে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ভাষায় উত্তর দেওয়া হবে, গান্ধীজির ভাষায় নয়! এমএলএদের রাতে বেরোতে হবে না, পুলিশকেই বলা আছে—এমনভাবে ওষুধ দিতে হবে যাতে সব ঠান্ডা হয়ে যায়। পহেলগাম বা অপারেশন সিন্দুরের মতো ঘটনায় যারা 'যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই' বলে সোচ্চার হয়, তাদের বরদাস্ত করা হবে না।”
















