আজ কৌশিকী অমাবস্যা। সকাল থেকে রেকর্ড ভক্ত সামাগম বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরে (Tarapith Temple) । সময় যত গড়াবে ভিড় আরও বাড়বে। সেই কথা মাথায় রেখে চার হাজারেরও বেশি পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী মোতায়ন করা হয়েছে মন্দির চত্বরে। তারাপীঠের যান চলাচল পার্কিং দর্শনার্থীদের প্রবেশপথ সহ বিভিন্ন পরিষেবার সংক্রান্ত রুট ম্যাপ এবং বিশেষ অ্যাপ ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দিনভর তারাপীঠগামী অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবার ঘোষণা করেছে পূর্ব রেল (Eastern Railway)। বেশ কয়েকটি ট্রেনে বাড়তি কামরাও যুক্ত করা হয়েছে।রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাওড়া ও রামপুরহাটের মধ্যে একজোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে যা দুপুর ১২ টা ৫০ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে।
বৃহস্পতিবার অমাবস্যার মূল পুজোর তিথি হওয়ায় রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও হাজার হাজার পুণ্যার্থী তারাপীঠের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে খবর মিলেছে। অতিরিক্ত যাত্রী সংখ্যার কথা মাথায় রেখে পূর্ব রেল জানিয়েছে আগামী তিনদিন রামপুরহাটগামী ও সেখান থেকে ফেরত একাধিক নিয়োমিত ট্রেনে বাড়তি দ্বিতীয় শ্রেণির কামরা যোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর)পর্যন্ত হাওড়া–জামালপুর কবিগুরু এক্সপ্রেসে এবং ১১-১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামালপুর-হাওড়া কবিগুরু এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত একটি করে দ্বিতীয় শ্রেণির কোচ থাকবে। এছাড়া পূজো শেষে শুক্রবার রামপুরহাট থেকে পুণ্যার্থীদের ফেরার ভিড় সামলাতে হাওড়া–রামপুরহাট–হাওড়া শহিদ এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত দ্বিতীয় শ্রেণির কামরা যুক্ত করা হবে।পূর্ব রেলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভিড় সামলাতে আজ রামপুরহাট স্টেশনে অতিরিক্ত আরপিএফ (RPF) মোতায়েন থাকবে বলে সূত্রের খবর।
তারাপীঠ মন্দিরে আসা দর্শনার্থীদের যাতে পার্কিং সংক্রান্ত কোনও সমস্যা না হয় সেই কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্পে বারকোড রাখা হয়েছে, যা স্ক্যান করলেই কোন রাস্তা নো এন্ট্রি কিংবা কোথায় প্রবেশ পথ অথবা পার্কিং এরিয়া কতদূর সেই সম্পর্কিত তথ্য দেখা যাবে। ভাদ্র মাসের এই অমাবস্য্যায় তারাপীঠ (Tarapith) সাধন ক্ষেত্রের এক আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। সেই কারণে প্রত্যেক বছর পুণ্যার্থীর সংখ্যা বাড়তেই থাকে। পরিস্থিতি নজরদারীর জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কাছে ২৬ টি পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ, স্পেশাল টেকনিক্যাল টিম, বিপর্যয় মোকাবেলা দল এবং ড্রপ গেট। নজরদারির জন্য বিপুল সংখ্যক সিসিটিভি, ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা এবং ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ ও ভিআইপি উভয় দর্শনার্থীদেরই মন্দিরের দু'নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। আজ সারাদিন তারাপীঠের মূল মন্দির চত্বরে কোনও গাড়ি ঢুকতে পারবে না।
















