রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকার ক্ষমতায় আসতেই ধীরে ধীরে কাটছে মধুচন্দ্রিমার কাল। ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই দলের অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে দিকে দিকে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি হিঙ্গলগঞ্জের (Hingalganj) বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রকে (Rekha Patra) অন্য বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াতে দেখা গিয়েছিল। এবার সেই রেখা পাত্রই বিজেপির বসিরহাট (Basirhat) সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। দলের অন্দরের ‘অপমান’ এবং ‘ভুল পথে চালিত’ করার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যেই অভিযোগ তুললেন রেখা। বিষয়টি বিজেপির উপরমহলের নজরে আনার পাশাপাশি, এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ওড়িশার জঙ্গলে কীভাবে এল ওরাংওটাং! তদন্তে নামতেই আটক ৩
বিধায়ক হওয়ার পরেও দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে খুব একটা মসৃণ নয়, সেটাই এবার এল প্রকাশ্যে। রেখার দাবি, জেলা স্তর থেকে তাঁকে এমন কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি বিভ্রান্ত হন। এমনকি দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁর। সেই কারণেই জেলা নেতৃত্বের অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।
রেখার কথায়, “আমি পড়াশোনা জানি না বলে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার কমিটি আমাকে ভুল পথে চালিত করে। সবসময় অপমান করে। অনুষ্ঠানে ডেকেও অপমান করা হয়। এগুলো আমার পছন্দ হয় না।” তাঁর দাবি, এত দিন বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। এবার দলের উপরমহল যাতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভোটের মুখে দলের সব পদ ছাড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
সন্দেশখালির আন্দোলনের সময় থেকেই বিজেপিতে পরিচিত মুখ রেখা। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তাঁকে বসিরহাট থেকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। যদিও সেই নির্বাচনে জয় আসেনি। এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হিঙ্গলগঞ্জে প্রার্থী হন রেখা এবং সেখান থেকেই জয় ছিনিয়ে নেন।
জেলা স্তরের রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও নিজের বিধানসভা এলাকায় তিনি নিয়মিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দাবি রেখার। মণ্ডল ও বুথ স্তরের কর্মীরা তাঁর কর্মসূচি সম্পর্কে জানেন বলেও জানান তিনি। সমাজমাধ্যমে নিজের প্রতিটি কর্মসূচির প্রচার না করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বিধায়ক। তাঁর কথায়, শুধু রাজনৈতিকভাবে ‘দেখা যাওয়ার’ জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে তুলে ধরার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। বরং মানুষের সমস্যা শোনা এবং বিধানসভা এলাকার কাজ করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে দাবি রেখার। তিনি বলেন, তাঁর দফতরে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় থাকে। নানা সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষ সেখানে আসেন এবং সেই কাজেই তিনি ব্যস্ত থাকেন।
তবে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিজেপির প্রতি আস্থা কমেছে কি না, সেই জল্পনাও উঠেছে। যদিও সেই সম্ভাবনা স্পষ্টভাবেই নাকচ করেছেন রেখা। দলের রাজ্য সরকার এবং তার কাজের প্রশংসাও করেছেন তিনি। তাঁর মতে, জেলা বা স্থানীয় স্তরে কিছু সমস্যা থাকলেও তার জন্য দলের সামগ্রিক কাজ থেমে থাকে না। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি আরও শক্তিশালী হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রেখার অভিযোগ অবশ্য মেনে নেয়নি বসিরহাট বিজেপির সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যের বক্তব্য, বিধায়ক হিসাবে রেখা পাত্র যে সম্মান পাওয়ার যোগ্য, তা দেওয়ারই চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর কোনও বিষয়ে খারাপ লেগে থাকলে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি বলেই মন্তব্য করেছেন জেলা সভাপতি। একই সঙ্গে সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে মাথায় রেখে দলের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। ফলে বিধায়কের প্রকাশ্য ক্ষোভের পর এখন নজর বিজেপির উপরমহলের দিকে। জেলা নেতৃত্ব বনাম বিধায়কের এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত কতদূর যায়, সেটাই দেখার।
















