রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল বের হওয়ার পর থেকেই বিজেপি কর্মীরা লাগাতার হুমকি ও মানসিক অত্যাচার চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। আর তার জেরেই আতঙ্ক ও মানসিক অবসাদে হাওড়ার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী জয়শ্রী পারাল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন জয়শ্রী। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জয়শ্রীর বাড়ি থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়শ্রী তাঁর বাড়িতেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সময়মতো চোখে পড়ে যাওয়ায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বেশ কিছু দিন ধরেই এলাকার কিছু বিজেপি কর্মী তাঁদের ক্রমাগত মানসিক অত্যাচার, রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা এবং ভয় দেখাচ্ছিল। লাগাতার হুমকির জেরে প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন ওই স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
তবে এই ঘটনায় কাউকেই এখনও আটক করেনি পুলিশ। জয়শ্রীর স্বামীর অভিযোগ, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনওরকম সাহায্য পাচ্ছি না। ডায়েরি বা এফআইআর কিছুই করেনি। শুধু আমার লিখিত অভিযোগটা জমা নিয়েছে। এদিকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সেটির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই নোটে ঠিক কী কী বিষয় উল্লেখ করা রয়েছে এবং কার বা কাদের নাম রয়েছে, পুলিশ সে-বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে মুখ খুলছে না।
তবে সূত্রের খবর, রাজনৈতিক চাপ ও
হুমকির কথাই তাতে আছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী দলগুলি হাওড়ায় ক্রমাগত রাজনৈতিক অশান্তি ও উসকানিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে এবং জয়শ্রী সেই চক্রান্তেরই শিকার। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত চালানো হচ্ছে।
















