মায়ের মৃতদেহের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। এই ছবি আজ ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিকে। অসুস্থ মাকে দেখার জন্য জেলবন্দি সন্ন্যাসীকে মুক্তি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। মায়ের মৃত্যুর পর প্যারোলে ছাড়া পেয়ে মৃতদেহের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এই ছবি দেখতে একেবারেই ভালো লাগছে না আমাদের। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে এই বিজেপি প্রভু চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জন্য কত কথা বলেছে, কত চোখের জল ফেলেছে, কিন্ত ক্ষমতায় এসে তারা ভুলে গেছে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের কথা। আজ যদি তাঁরা চিন্ময়কৃষ্ণের কথা মনে রাখত, তাহলে এই ছবি আমাদের দেখতে হত না। এভাবেই চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে বিজেপির ভণ্ডামির কড়া সমালোচনা করল তৃণমূল কংগ্রেস।

 

 

 দলের বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ শুক্রবার, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ওটা অন্য দেশ। সেখানে কী হচ্ছে সেই নিয়ে কিছু বলতে চাই না। এর জন্য বিদেশমন্ত্রক আছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট বলছি, এই ছবিটা দেখতে মোটেও ভালো লাগছে না। তিনি প্যারোল চেয়েছিলেন অসুস্থ মাকে একবার দেখার জন্য, তাঁর মা-ও তাঁকে একবার দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তা মঞ্জুর করেনি। এই নিয়ে কিছু বলছি না। কারণ, এটা অন্য দেশের বিষয়, তিনি কী অন্যায় করেছেন, কী করেননি, সেটা আলাদা। কিন্তু যেটা বলব, তা হল এই বিজেপি সরকার এখন কী করছে, যারা সনাতনী-সনাতনী বলে সারাক্ষণ চিৎকার করে, তারা এখন কী করছে? কেন্দ্রীয় সরকার কী করছে? তারা তো বাংলাদেশের একজনকে এই দেশে আশ্রয়ও দিয়ে রেখেছে। সেটা রাখতে পারেন, আমরা এই নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলছি না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কথায়-কথায় এত হুঙ্কার দেয়, তারা বাংলাদেশের জেলে বন্দি একজন সন্ন্যাসীর জন্য কী করেছে? এই রাজ্যের বিজেপি সরকার কী করছে? তারা যখন ক্ষমতায় আসেনি তখন কত কথা, বাংলাদেশ উপদূতাবাসে গিয়ে বিক্ষোভ, কী করেনি! কিন্তু এখন তো তারা ক্ষমতায়, এখন কি তারা একবারও এই নিয়ে কোনও আওয়াজ তুলেছে? কোনও কমিউনিকেট করেছে? তাদের যত দাপট, যত হুমকি, যত পুলিশি জুলুম সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের ওপর হচ্ছে। যখন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস গ্রেফতার হন, তখন এরাই দাবি করত ছাড়তে হবে। তা হলে এখন তো তারা ক্ষমতায়, কেন্দ্রে সনাতনী সরকার, রাজ্যেও সনাতনী সরকার, তা হলে বাংলাদেশের একজন সনাতনী সন্ন্যাসী অসুস্থ মাকে দেখার জন্য প্যারোল পেলেন না! কী করছে এই বিজেপি সরকার, প্রশ্ন তোলেন কুণাল। এই ছবিটা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পৃথিবীতে। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একটা লাইনও শোনা যায়নি, রাজ্যের বিজেপি নেতাদের একটা লাইনও পাওয়া যায়নি। কেন পাওয়া যায়নি? তাদের এখন কাজ হল শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, পুলিশ দিয়ে— গুন্ডা দিয়ে তাণ্ডব করে নিজেদের শক্তি দেখানো।