প্লাস্টিক দূষণ ( Plastic Pollution)  বর্তমানে পরিবেশের অন্যতম বড় সমস্যা। প্রশাসনের তরফে বার বার প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও বাস্তবে তার ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। এ বার সেই সমস্যার মোকাবিলার জন্য অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে বিশ্বভারতীর ( Visva Bharati University) কর্তৃপক্ষ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত ( Plastic)  করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  পাশাপাশি ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও পলিথিনকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হবে গ্যাস এবং পেট্রোলিয়ামজাত তরল জ্বালানি।

আরও পড়ুন: শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের PA-র ৮ দিনের CID হেফাজত

বিশ্বভারতীর দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন-শ্রীনিকেতন এলাকার হস্টেল, আবাসন, বিভিন্ন ভবন এবং অন্যান্য জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হবে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন-সহ নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য।  সংগ্রহ প্রক্রিয়া শেষে বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে ওই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা হবে। তারপর আগামী এক মাসের মধ্যেই এই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা কঠিন এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই প্রকল্পটি তৈরী করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। এই নিয়ে কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ক্যাম্পাসে তৈরি হওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সেটিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করা। এর ফলে এক দিকে যেমন ক্যাম্পাসে প্লাস্টিকের পরিমাণ কমবে, অন্য দিকে  আগামীদিনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও নতুন দিশা তৈরি হতে পারে। তবে প্লাস্টিক পুড়িয়ে এই জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনা নয়। বিশেষ প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রিত উত্তাপের মাধ্যমে প্লাস্টিককে ভেঙে গ্যাস ও তরল উপাদানে পরিণত করা হবে। পরবর্তী ধাপে শোধন ও ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই উপাদানগুলিকে আলাদা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞদের দাবি, উৎপন্ন গ্যাস রান্নার কাজে এবং তরল অংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ পলিথিনমুক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় কত পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, তার হিসাব করা হবে। সেই পরিমাণের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু মূলত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই সীমাবদ্ধ নয় হস্টেল, কোয়ার্টার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আদর্শ গ্রামের বর্জ্যকেও প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বভারতীর এক আধিকারিকের মতে, কেবল নিয়ম করে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বর্জ্য সংগ্রহ করে সেটিকে কার্যকর ভাবে কাজে লাগাতে পারলেই পরিবেশের উপর চাপ কমানো সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই প্লাস্টিককে জ্বালানিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা।