পাহাড়ে দুর্যোগের জেরে ফের বড়সড় বিপর্যয়। রাতভর টানা এবং মুষলধারে বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি নদী বালাসনের জলস্তর হু হু করে বেড়ে গিয়েছে, আর নদীর সেই প্রবল জলের তোড়ে আবারও ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি। এর ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সপ্তাহের শেষলগ্নে এই বিপর্যয়ের জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটকরা। 

আরও পড়ুন: দেখে নিন কোথায় কত দাম পেট্রোল ডিজেলের

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত রাত থেকেই পাহাড়ে একটানা ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। মধ্যরাতের পর থেকে বৃষ্টি আরও জোরালো হলে বালাসনের জলের তোড় মারাত্মক আকার ধারণ করে। নদীর জলস্তর বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে দুধিয়ার অস্থায়ী হিউম পাইপ সেতুটির ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে। জলের তীব্র গতি সামলাতে না পেরে সেতুটির সিংহভাগ কাঠামো নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। 

সেতুটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই মুহূর্তে দুধিয়া-মিরিক রুটে ভারী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সেনাবাহিনীর তৈরি বেইলি ব্রিজ ব্যবহার করে ছোট গাড়ি যাতায়াত করতে পারলেও যানজটের সমস্যা চরম আকার নিয়েছে। পাহাড় ও সমতলের যোগাযোগের প্রধান অন্যতম লাইফলাইন এভাবে ভেঙে পড়ায় কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মিরিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে স্থানীয় বাসিন্দারা। 

আরও পড়ুন: মেঘলা সকালে শহরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপে দিনভর ভিজবে দক্ষিণবঙ্গ

এক রাতের বৃষ্টিতেই যেভাবে নদীর রূপ বদলেছে, তাতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পাহাড়ে ধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন সেচ দপ্তর এবং স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাহাড়ে বৃষ্টি আরও কিছু সময় বজায় থাকতে পারে। সেই কারণে অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলতে এবং কোনও বড় রকম ঝুঁকি না নিয়ে চালকদের বিকল্প ও নিরাপদ রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ও নদীর জল কমলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পুনরায় মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।