বিদেশে পড়াশোনা, সঙ্গে চাকরির সুযোগ। ইনস্টাগ্রামে (Instagram) এমনই প্রস্তাব পেয়েছিল হাওড়ার (Howrah) জগৎবল্লভপুরের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। সেই প্রস্তাব যে এত বড় বিপদের পথে নিয়ে যাবে, তা সম্ভবত কল্পনাও করেনি মেয়েটি। পরিবারের অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে যোগাযোগ করে কিশোরীকে কলকাতায় (Kolkata) ডেকে এনে একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়। পরে পরিবারের কাছে তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালনের সঙ্গেই গঙ্গার প্রতি ঘাটে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন: মোদির জন্মদিনে গুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় বুধবার রাতে নিউ মার্কেট থানা (New Market) এলাকার একটি হোটেল থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পিছনে আন্তঃরাজ্য সাইবার অপরাধচক্রের যোগ থাকতে পারে বলেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ সেপ্টেম্বর। জগৎবল্লভপুরের শঙ্করহাটি-২ এলাকার ওই ছাত্রী সেদিন স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি ছাত্রী। পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করলেও কোনও সন্ধান মেলেনা মেয়ের। পরে জানা যায়, আধার কার্ড-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিল সে।

আরও পড়ুন: বিদেশে বাঁধনের উপর হামলায় সরবরা বাংলাদেশে নারী নির্যাতনে চুপ কেন? সিলেক্টিভ প্রতিবাদে কি সম্মান রক্ষা হয়

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে কয়েক জনের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। বিদেশে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করানো এবং চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে কলকাতায় আসতে বলা হয়। সেই কথায় বিশ্বাস করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে কিশোরী। স্থানীয় কয়েক জন বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার করে বাসে চেপে ধর্মতলায় পৌঁছয় সে।

এর পরেই হয় মোহভঙ্গ। অভিযোগ, আগে থেকেই নিউ মার্কেট এলাকায় একটি হোটেলে ঘর নেওয়া ছিল। সেখানে পৌঁছনোর পর ছাত্রীকে আটকে রাখা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার পরিবারের কাছে ফোন আসে। তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। টাকা না দিলে মেয়েটিকে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

 

মেয়ের নিখোঁজের পরই জগৎবল্লভপুর থানায় ডায়েরি করেছিল পরিবার। মুক্তিপণের ফোন পাওয়ার পর তদন্তে আরও গতি আসে। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের সাইবার সেল, জেলা পুলিশের আধিকারিক এবং রাজ্য পুলিশের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির প্রতিনিধিরাও তদন্তে যুক্ত হন। পরিবারের ফোনে আসা যোগাযোগের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা শুরু হয়। সেখান থেকেই মেলে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। পুলিশ জানতে পারে, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে একাই রয়েছে ওই ছাত্রী। এরপর বুধবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে তদন্তকারী দল।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সম্ভবত আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের সদস্য। বিহার, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ বা হরিয়ানার মতো রাজ্য থেকে তারা অপহরণ-সহ বিভিন্ন অপরাধ চালিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

 

অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং খুনের হুমকির অভিযোগে ইতিমধ্যেই মামলা শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার অমিত বর্মা জানিয়েছেন, কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার ওই নাবালিকাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে হাজির করানো হয়। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আপাতত স্বস্তিতে পরিবার। তবে ইনস্টাগ্রামের মতো সমাজমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কীভাবে একটি কিশোরীকে এত বড় বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তকারীদের নজর অভিযুক্তদের দিকে।