হুগলিতে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভা নিয়ে অনিশ্চয়তা। সভার জন্য যে মাঠকে ঘিরে আদালতে অনুমতির লড়াই চলছিল, শেষ মুহূর্তে সেই জমি দিতে আপত্তি জানাল জগন্নাথ মঠ কর্তৃপক্ষ। ফলে সভা নিয়ে আপাতত অনিশ্চয়তা তৈরি হল। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফের মামলার শুনানি। পূর্ণাঙ্গ শুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আদালত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একের পর এক নাটকীয় মোড় নেয় বিষয়টি। প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে শ্রীরামপুরে (Serampore) সভার অনুমতি মিলেছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে (Division Bench) যায় রাজ্য। শুনানি চলাকালীন সভার জন্য নির্ধারিত জমি নিয়ে আপত্তি তোলে জগন্নাথ মঠ কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালনের সঙ্গেই গঙ্গার প্রতি ঘাটে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন: মোদির জন্মদিনে গুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মঠের তরফে আদালতকে জানানো হয়, ওই জমি তাদের নিজস্ব। সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তারা রাজি নয়। পাল্টা প্রশ্ন ওঠে, অতীতে ওই জায়গায় সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কেন? মঠ কর্তৃপক্ষের দাবি, আগেও তাদের উপর চাপ দিয়ে জমি নেওয়া হয়েছিল।

 

এদিকে আদালতে সভার দিন পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উঠে আসে। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, শুক্রবারের কর্মসূচি কি কোনও বিশেষ দিবস উপলক্ষে? এমন কোনও বিশেষ কারণ রয়েছে কি, যার জন্য নির্দিষ্ট ওই দিনেই সভা করতে হবে? তৃণমূলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) জানান, এটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। প্রধান বিচারপতির পাল্টা প্রস্তাব, আগামী সপ্তাহে সভা করা সম্ভব হলে পূর্ণাঙ্গ শুনানি করে মামলাটির নিষ্পত্তি করা যেতে পারে কি না। দিন বদলাতে তাঁর আপত্তি নেই বলে জানান কল্যাণ। তবে তাঁর বক্তব্য, শুক্রবারের পর তিনি বেশ কিছুদিন কলকাতায় থাকবেন না। কারণ সুপ্রিম কোর্টে তাঁর মামলা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ‘জিনে নেহি দেঙ্গে, শোনে নেহি দেঙ্গে’ ধরনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: বিদেশে বাঁধনের উপর হামলায় সরবরা বাংলাদেশে নারী নির্যাতনে চুপ কেন? সিলেক্টিভ প্রতিবাদে কি সম্মান রক্ষা হয়

সভাস্থল নিয়ে বিকল্প প্রস্তাবও দেয় রাজ্য। আদালতে জানানো হয়, শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে রবিবার মঞ্চ করে ৫০০ জন এবং মঞ্চ ছাড়া ৭০০ জনকে নিয়ে সভা হলে রাজ্যের আপত্তি নেই। যদিও এই প্রস্তাবেও আপত্তি জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, জায়গাটি বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে বিভিন্ন সময় সভা হয়ে থাকে।

শুধু সভাস্থল নয়, শুনানিতে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। কল্যাণের অভিযোগ, গতকালই মুখ্যমন্ত্রী যাদবপুরে সন্ন্যাসীদের নিয়ে মিছিল করেছেন। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিন পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের হেনস্থা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। শ্রীরামপুরের আইসি-কে নিয়েও একটি পুরনো ঘটনার কথাও তুলে ধরেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, ৪ মে ওই আইসি তাঁকে দু’প্যাকেট মিষ্টি পাঠিয়ে বলেছিলেন, ‘দিদিকে বলবেন আমি আছি’, কিন্তু ৫ মে-র পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

 

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আপাতত সভা হচ্ছে না বলেই স্পষ্ট হয়েছে। আদালত বিকল্প জায়গা নিয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছে। পরবর্তী শুনানি শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায়। পূর্ণাঙ্গ শুনানির পরই শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা আদৌ কোথায় এবং কবে হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আদালত।