”দুর্গাপূজা না লিখে শারোদৎসব লিখলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের একটা স্টলও করতে দেবেন না”- বৃহস্পতিবার, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, বুক স্টল হবে। আর এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করেন এসএফআইয়ের (SFI) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য থেকে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। আর মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বামেদেরও একতিরে নিশানা করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ ( Kunal Ghosh)। 

আরও পড়ুন: ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডে জামিন পেলেন ধৃত ১৩ তৃণমূল কর্মী, খারিজ পুলিশের হেফাজতের আর্জি

এদিন বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বামেদের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী ( Suvendu Adhikari) বলেন, “একশ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করতেন। সমস্ত দুর্গাপুজো কমিটির কাছে আবেদন করব কমিউনিস্টরা যে বুকস্টল করেন, সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ লিখলে স্টল করতে দেবেন না।” 

এর পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেন, ওঁদের আসলে বইকে বয়। সেই কারণেই বুকস্টল করা নিয়ে এতো আপত্তি। তার পরেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সুজন বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, বুকস্টল হবে। আমরা মানুষকে বই উপহার দেব। সৃজন ভট্টাচার্য (Srijan Bhattacharya) কটাক্ষ করে বলেন, "এসব কোনও ইস্যুই নয়। গ্যাসের দাম ৪৫০ টাকা হয়নি, মহিলারা ৩০০০ টাকা পাচ্ছেন না, গরিব মানুষ উচ্ছেদ হচ্ছে, চাকরিপ্রার্থীরা আবার পথে নামতে বাধ্য হয়েছে, এই সব থেকে নজর ঘোরাতে এসব ধুয়ো তোলার চেষ্টা। এক ধাপ এগিয়ে খোঁচা দিয়ে শতরূপ ঘোষ নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে লেখেন, “ধরুন স্টলে লিখলাম ‘দুর্গাপুজো’। আর স্টলের সামনে বড় স্ক্রীন লাগিয়ে নারদার ভিডিওটা চালালাম। তাহলে চলবে?“

মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভার মন্তব্য নিয়ে একতিরে বাম-বিজেপিকে নিশানা করেন কুণাল ঘোষ। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে দুটো পয়েন্ট আছে । প্রথমত, সিপিএম বুঝুক বিজেপি শত্রু না তৃণমূল শত্রু। আপনারা সেটা বুঝতে পারলেন না। আপনাদের কিছু লোক ভোট দিলেন বিজেপিকে। বিজেপি যখন সিবিআই, ইডি দিয়ে কুৎসামূলক চক্রান্ত হল তখন আপনারা আমোদ পেলেন। আগে রাম, পরে বাম করতে গিয়ে পরিস্থিতি আপনাদের হাতের বাইরে চলে গেল। আজকে তারা আপনাদের হুমকি দিচ্ছে , তারা আপনাদের আক্রমণ করছে আর এই সবকিছুর জন্য দায়ী আপনারা। দ্বিতীয়ত, দেখে মনে হচ্ছে সিপিএমকে আক্রমণ করা হচ্ছে কিন্তু এটা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সিপিএমকে প্রলুব্ধ করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী এই কথাগুলো বলেছেন। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে একদিকে পুলিশ দিয়ে হুমকি দিয়ে দল ভাঙানোর খেলা খেলিয়ে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেটা করতে পারবেন না।“ তৃণমূল জমানার উল্লেখ করে কুণাল বলেন, “মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরে কখন শুনেছেন সিপিএমকে স্টল করতে দেওয়া হয়নি। আমরা রাজনৈতিকভাবে বলেছি তোমরা পুজোর বিরোধী তাহলে মণ্ডপের সময় পুজোর বাইরে স্টল করো কেন! কিন্তু এটা রাজনৈতিক তর্ক। কখনও সিপিএমের একটা স্টলের বাঁশে কখনও হাত পড়েনি। আজকে শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, দুর্গাপুজো না লিখলে সিপিএমকে স্টল করতে দেব না। অর্থাৎ সিপিএমকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ করার সমস্ত রকম চেষ্টা আজকে শুভেন্দু অধিকারী করলেন।“ 

এর পরে বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, “এখন সিপিএমকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে বিজেপি আর তৃণমূলকে তারা একই সঙ্গে শত্রু মনে করার নাম করে বিজেপিকে মদত করবে নাকি বিজেপিকে মূল শত্রু চিহ্নিত করে ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল গণতন্ত্রের ভূমিকা পালন করবে সেটা সিপিএমকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।“