রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পেশ হওয়া বিতর্কিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল ২০২৬’-এর বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। বিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন খর্ব করবে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার অধিবেশন কক্ষে নিজের বক্তব্যের জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় পেয়েছিলেন তিনি, সেই সংক্ষিপ্ত পরিসরেই বিলের যৌক্তিকতা নিয়ে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই বিলের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আলিফা বলেন, এই বিলটির অন্তর্নিহিত অর্থ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এটি প্রকৃত অর্থেই রাজ্যের উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, নাকি কেবল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে আঁটোসাঁটো করবে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। বিল আনার দ্রুততা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করে তিনি জানান, মাত্র তিন দিন আগে অর্থাৎ চলতি সপ্তাহের সোমবার মন্ত্রিসভায় এটি অনুমোদিত হয়েছে, আর বৃহস্পতিবারই তা বিধানসভায় নিয়ে আসা হল।

এত তাড়াহুড়ো করে এমন একটি সংবেদনশীল বিল আনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আলিফা বলেন, যেখানে গোটা রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভবিষ্যৎ জড়িত, সেখানে শিক্ষক সংগঠন, উপাচার্য, শিক্ষাবিদ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সেনেট ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে আগে থেকে আলোচনার সুযোগ দেওয়া কি রাজ্য সরকারের উচিত ছিল না?

বিলের বয়ানে থাকা অস্পষ্টতা নিয়েও কড়া মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, বিলে কেবল ‘প্রশাসনিক কারণ’-এ বদলির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেই প্রশাসনিক কারণটি ঠিক কী, তার কোনও স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। বদলির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের মতামতের কোনও মূল্য থাকবে কি না, বিল পাঠ করে তা বোঝার কোনও উপায় নেই। এই সূত্রেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আলিফা প্রশ্ন তোলেন, অস্পষ্ট নিয়মের অজুহাতে এই বিল শেষ পর্যন্ত শিক্ষকদের বাকস্বাধীনতার উপরেই পরোক্ষভাবে চাপ তৈরি করবে কি না, তা গভীরভাবে ভেবে দেখা দরকার। শিক্ষক মহলের আশঙ্কাকে কার্যত বিধানসভার ভেতরে এ দিন তুলে ধরেন তিনি।