রাস্তার নাম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিতর্কের পর এবার নামকরণ প্রক্রিয়াকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। কলকাতা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তা, সরণি, অ্যাভিনিউ, সেতু কিংবা সাধারণের ব্যবহারের জায়গার নাম পরিবর্তন বা নতুন নাম দেওয়ার আগে প্রস্তাবগুলি যাচাই করার জন্য গড়া হল ১০ সদস্যের পরামর্শদাতা কমিটি। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বামী প্রদীপ্তানন্দ ওরফে কার্তিক মহারাজ (Swami Pradiptananda, alias Kartik Maharaj)। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথাগত রায় (Tathagata Roy), মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta, Chief Advisor to the Chief Minister) এবং কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে (Kolkata Municipal Commissioner Smita Pandey)।
নতুন ব্যবস্থায় কোনও নামের পক্ষে শুধু প্রশাসনিক প্রস্তাব থাকলেই হবে না, তার পিছনে থাকা ইতিহাস ও সামাজিক প্রেক্ষাপটও খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, পুরনো নথি ও ঐতিহাসিক প্রমাণ পরীক্ষা করে নামকরণের যৌক্তিকতা যাচাই করবে কমিটি। প্রয়োজনে ইতিহাসবিদ, বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতামতও নেওয়া হবে। এরপর সমস্ত দিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করবে তারা।
রাস্তার নাম নিয়ে বিতর্ক যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন নয়, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাতেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। কলকাতায় সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জি রোড (Gopal Mukherjee Road) করা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছিল, তেমনই রামপুরহাটে ‘নেতাজি সুভাষ রোড’-এর (Netaji Subhash Road in Rampurhat) নাম বদলের প্রস্তাব নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফলে এবার নাম পরিবর্তনের আগে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মাপকাঠি সামনে রাখার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তবে কমিটির গঠন নিয়েও ইতিমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কার্তিক মহারাজের নেতৃত্ব এবং তথাগত রায়ের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি নজর কেড়েছে। সরকারের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যাচাইয়ের বিষয়টি। ফলে এই কমিটি সেই মানদণ্ড বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করে এবং বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে কী ধরনের সুপারিশ করে, তা নিয়েই এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের দফতর থেকে জারি হওয়া নির্দেশিকার মাধ্যমে কমিটির দায়িত্ব ও কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরণ বা নাম পরিবর্তনের যে প্রস্তাবগুলি আসবে, সেগুলির ক্ষেত্রে এই কমিটির মতামত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাস্তার নামের মতো স্থানীয় বিষয়কে ঘিরে ভবিষ্যতে নতুন কোনও বিতর্ক তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
















