ক্ষমতায় আসার আগে কর্মরত শিক্ষকদের টেটের বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, আর ক্ষমতায় আসার পর সেই শিক্ষকদেরই পরীক্ষার মুখে দাঁড় করানোর তোড়জোড়। রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ ঘিরে এমনই অভিযোগ উঠছে শিক্ষক মহলে। প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের টেট (TET) নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর (School Education Department)। পরীক্ষা কবে নেওয়া সম্ভব, তা জানতে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে দিনক্ষণ চাওয়া হয়েছে। আর এই খবর সামনে আসতেই নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে টেট-উত্তীর্ণ নন এমন ৯০ হাজারের বেশি রাজ্যের কর্মরত শিক্ষককে ঘিরে।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে টেট এখন বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। আগে টেট না-পাওয়া শিক্ষকদের ২০২৭ সালের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের অগাস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। অবসরের পাঁচ বছর বা তার কম সময় যাঁদের বাকি, তাঁদের অবশ্য এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে রাজ্যের নতুন তৎপরতায় এখন মূল প্রশ্ন, পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা বা সুযোগ না-পাওয়া শিক্ষকরা কী করবেন এবং টেট উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাঁদের চাকরির ভবিষ্যৎই বা কী হবে।

আরও পড়ুন: এর নাম পরিবর্তন! ‘বামপন্থী’ হয়েও BJP-কে ভোট দিয়ে 'আফসোস' সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের পদত্যাগী উপাধ্যক্ষের

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন মূলত ২০১১ সালের আগে নিযুক্ত শিক্ষকরা। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার পর এনসিটিই-র নিয়ম মেনে রাজ্যে ২০১১ সালের জুলাই থেকে টেটকে শিক্ষকতার যোগ্যতার অন্যতম শর্ত করা হয়। তার আগে যাঁরা চাকরিতে ঢুকেছিলেন, তাঁদের পরবর্তী সময়ে এই পরীক্ষার আওতায় আনা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। এই শিক্ষকরা টেটের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় চেয়ে আন্দোলনও করেছেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন হলেও টেটের আবশ্যিকতা বহাল থেকেছে। সারা দেশে এমন টেট-উত্তীর্ণ নন এমন কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষ, রাজ্যে ৯০ হাজারের বেশি।

এই পরিস্থিতিতেই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের (Swapan Mandal, General Secretary of the Bangiya Shikshak O Shikshakarmi Samiti) দাবি, “বিজেপি সরকার আমাদের রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে কর্মরত শিক্ষকদের যাতে টেট দিতে না হয় তার ব্যবস্থা করবে। ক্ষমতায় এসেই একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেল। শিক্ষকসমাজকে প্রতারণা করা হল।” অন্যদিকে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রবশেখর মণ্ডলের (Dhrubashekhar Mandal, General Secretary of the All Bengal Primary Teachers' Association) প্রশ্ন, “আমাদের টেট বিরেধী লড়াই জারি থাকবে। আমাদের প্রশ্ন যে সব শিক্ষকেরা টেট-এর জন্য যোগ্যতা এখনও অর্জন করেনি তাঁদের কী হবে? টেটে যদি তাঁরা বসতে বা উত্তীর্ণ হতে না-পারেন তা হলে কি তাঁদের চাকরি থাকবে না? সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন তাঁদের নিয়ে কী ভাবছে?”

ফলে সরকারের নতুন উদ্যোগ ঘিরে এখন শুধু পরীক্ষা নেওয়ার দিনক্ষণ নয়, কয়েক হাজার কর্মরত শিক্ষকের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়েও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে।