জলপাইগুড়ি ( Jalpaiguri) জেলা স্কুলে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ( Teacher Harassment) ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর। অভিযুক্ত পড়ুয়াদের ( Student) চিহ্নিত করে স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা টিসি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী (WestBengal Education Minister) দীপক বর্মন ( Dipak Barman)। তবে টিসি দিলেও অভিযুক্ত পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া এবং পরীক্ষায় বসার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হুগলিতে মমতার সভা হচ্ছে না ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, মামলা ফিরল সিঙ্গল বেঞ্চ
শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে গিয়ে গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে প্রশাসনিক আধিকারিক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তনী সংসদ এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে বৈঠক হয়। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে শহরের আরও বেশ কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরও বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী জানান, “স্কুলে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক। শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কড়া বার্তা দেওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই অভিযুক্ত পড়ুয়াদের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” প্রশাসনের তরফে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অভিযুক্ত পড়ুয়াদের চিহ্নিত করে তাঁদের টিসি দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অন্য কোনও বিদ্যালয়ে তাঁদের ভর্তি নিয়ে যাতে সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। অর্থাৎ, শাস্তি হিসেবে বর্তমান স্কুলে পড়ার সুযোগ বন্ধ হলেও তাঁদের লেখাপড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।
ঘটনার সূত্রপাত শিক্ষক দিবসের বিশেষ খাওয়াদাওয়াকে ঘিরে। অভিযোগ, স্কুলে বিশেষ আয়োজন চলাকালীন কয়েকজন পড়ুয়া খাবারের জায়গায় উঁকি দেয়। এরপর প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে একদল পড়ুয়া প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রক্তাক্ত হন। পাশাপাশি স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। প্রধানশিক্ষককে প্রকাশ্যে হেনস্থা ও মারধরের ঘটনায় গোটা রাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ঘটনার তদন্তে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে পরিদর্শক দলও পাঠানো হয়েছিল। স্কুলে গিয়ে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করে ওই দল। সেই রিপোর্ট এবং শুক্রবারের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পরই অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে টিসির সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী।
















